মহারাষ্ট্রে তবে কি গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়ে গেল? প্রতিদিন যে হারে এই রাজ্যে, বিশেষ করে রাজ্যের রাজধানী মুম্বাইয়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে এই সন্দেহ জোরালো হয়ে উঠছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, কোনও রাজ্যেই গোষ্ঠী সংক্রমণ ঘটেনি। যদিও দেশের অর্থনৈতিক রাজধানীতে করোনার ব্যাপ্তিতে দুই সরকারই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।
সারা দেশে যেখানে প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন, সেখানে শুধু মহারাষ্ট্রেই সংক্রমিত হচ্ছেন গড়ে পাঁচ শতাধিক। গত চব্বিশ ঘণ্টায় দেশের মোট আক্রান্তের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই মহারাষ্ট্রে। সর্বভারতীয় সংখ্যা যেখানে ৩৩ হাজারের কিছু বেশি, সেখানে মহারাষ্ট্রের সংখ্যা ১০ হাজার ছুঁতে চলেছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত প্রায় ৬০০। মৃত্যু হয়েছে ৩২ জনের। সারা দেশের মৃত্যুর সংখ্যা যেখানে ১ হাজার ৭৪, সেখানে শুধু মহারাষ্ট্রেই মারা গেছেন ৪৩২ জন। এসব কারণেই গোষ্ঠী সংক্রমণের সন্দেহ বড় হয়ে উঠেছে। যদিও সরকারিভাবে তা স্বীকার করা হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ও রাজ্যের নতুন চিন্তা, ৩ মের পর লকডাউন আংশিক প্রত্যাহৃত হলে অবস্থার উন্নতি না অবনতি—কোনটা ঘটবে তা নিয়ে। দেশে প্রথম করোনা ধরা পড়ে কেরালায়। সেই রাজ্য অবস্থার সামাল ভালোই দিয়েছে। কিন্তু কেরালার চিন্তা পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসকারী শ্রমিকদের দেশে ফেরা নিয়ে। ওই শ্রমিকদের সিংহভাগই কেরালার। এর পরেই স্থান মহারাষ্ট্রের। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল শুরু হলে শ্রমিকদের প্রত্যাবর্তন শুরু হবে। করোনাভাইরাসের চরিত্রও প্রায়ই বদলে যাচ্ছে। উপসর্গহীনতা আরও একটা বড় চিন্তার বিষয়। সব মিলিয়ে সরকারিভাবেই স্বীকার করা হচ্ছে, পুরো মে মাসই ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন এটা স্পষ্ট যে, ৩ মের পর থেকে দেশের বিভিন্ন ‘সবুজ’ অঞ্চলে জনজীবন কিছুটা সহজ করা হবে। অর্থনীতি কিছুটা সচল করতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ভারসাম্যের খেলাটা খুবই জটিল। ধীরে ধীরে অর্থনীতি সচল করতে হবে, আবার একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় নিষেধাজ্ঞাও জারি রাখতে হবে। ভারসাম্য রক্ষার ওপরই নির্ভর করবে করোনা মোকাবিলার ভবিষ্যৎ।
কেন্দ্র ও রাজ্যের ওপর এই মুহূর্তের আর একটা বড় চাপ পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরানো। বিভিন্ন রাজ্যে কর্মরত শ্রমিকেরা লকডাউনের শুরু থেকে আটকে পড়ায় প্রবল সামাজিক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। উঠেছে মানবিকতার প্রশ্নও। অবশেষে লকডাউনের ৪০ দিন পূর্ণ হওয়ার মুখে কেন্দ্র ঠিক করেছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরানোর অনুমতি দেওয়া হবে। উত্তর প্রদেশ এই কাজটা আগেই করেছিল। তাতে তাদের সমালোচনাও শুনতে হয়। প্রবল আপত্তি জানিয়েছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমার। কিন্তু এখন তিনিও পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফেরাতে সম্মত হয়েছেন। রাজনৈতিক চাপের কাছে মাথা নুইয়েছেন। নিতীশের দাবি, এই কাজে বিশেষ ট্রেন চালানো হোক। একই দাবি উঠেছে অন্যান্য রাজ্য থেকেও। সূত্রের খবর, রেল মন্ত্রণালয় এই দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
রাজস্থানের কোটায় আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের সমস্যাও এবার মিটতে চলেছে। ওই জেলার বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে লকডাউনের কারণে আটকে পড়েছেন হাজার হাজার পড়ুয়া। সব রাজ্যই এবার ওই শিক্ষার্থীদের ফেরত নিতে চলেছে। সেটাও প্রশাসনের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
নানাবিধ দুশ্চিন্তার মধ্যেও বৃহস্পতিবার আশার খবর শুনিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে, করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ী ফেরার হার বেড়ে হয়েছে ২৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। দুই সপ্তাহ আগে এই হার ছিল ১৩ শতাংশ। মৃত্যুর হার ৩ দশমিক ২ শতাংশ।
No comments:
Post a Comment