পাথরের (স্টোনের) ব্যথা খুবই বিপজ্জনক। যার কিডিনিতে পাথর হয়, তিনিই জানেন এটা কতটা কষ্টের। এমতাবস্থায় একটাই চাওয়া যে, যেমন কিছু ভাবেই হোক তার কিডনি থেকে এই স্টোন বেরিয়ে যাক। পাথর আকারে ছোট হলে বেশি পরিমাণে জল পান ও অন্য কিছু খেয়ে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করা যায়। কিন্তু যদি এই পাথর আকারে বড় হয়, তাহলে অপারেশনই একমাত্র বিকল্প।
কিছু মানুষ পাথর বের করার জন্য অনেক ঘরোয়া উপায়ও অবলম্বন করে থাকেন। ইন্টারনেট তো এমন প্রতিকারে পূর্ণ। এই প্রতিকারগুলির মধ্যে একটি সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং তা হল বিয়ার পান করা। আপনিও নিশ্চয়ই অনেকের মুখে শুনেছেন যে, “ভাই, পাথর হয়েছে? বিয়ার খাওয়া শুরু করুন। সব পাথর বেরিয়ে আসবে।" কিন্তু এটা কি সত্যিই হয়? বিয়ার কি আপনাকে পাথরের হাত থেকে মুক্তি দিতে পারে? চলুন জেনে নেওয়া যাক এ বিষয়ে সত্যতা।
গবেষণা কি বলে?
গবেষণা অনুসারে, যারা বিয়ার পান করেন, তাদের কিডনি স্টোন হওয়ার সম্ভাবনা 41 শতাংশ কমে যায়। এর কারণ হল বিয়ার পান করলে আপনার প্রস্রাব বেশি হয়। শরীরে উপস্থিত সমস্ত বিষাক্ত পদার্থ এই প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়।
বিয়ার যেভাবে কিডিনি স্টোন দূর করে
বিশেষজ্ঞদের মতে, বারবার প্রস্রাব করতে গেলে কিডনির ওপর চাপ পড়ে। এই চাপের কারণে বৃক্ক বা কিডনি থেকে পাথর বেরিয়ে আসে। তবে প্রস্রাবের মাধ্যমে ছোট পাথর অপসারণ করা সম্ভব। বড় পাথর থাকলে তা প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হওয়া সম্ভব নয়।
বেশি বিয়ার পাথরের ঝুঁকি বাড়াতে পারে
যদি আরও কিছু গবেষণায় বিশ্বাস করা হয়, তাহলে বেশি বিয়ার পান করলে পাথরের সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে বাড়তেও পারে। এই সমীক্ষা অনুসারে, যারা অতিরিক্ত পরিমাণে বিয়ার পান করেন, তাদের মধ্যে কিডনি স্টোনের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এর কারণ হল, অতিরিক্ত পরিমাণে বিয়ার পান করলে শরীরে জলশূন্যতা দেখা দিতে পারে। একই সময়ে, বিয়ারে উপস্থিত অক্সালেটের কারণে শরীরে পাথর গঠনের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
পাথর থেকে মুক্তি পেতে বিয়ার পান করা কতটা ঠিক
আপনি যদি প্রচুর পরিমাণে বিয়ার পান না করেন তবে এটি আপনার কিডনি থেকে পাথর অপসারণে সাহায্য করতে পারে। অতএব, আপনি যদি পাথরের সমস্যায় বিয়ার পান করেন তবে এটি খুব বেশি পরিমাণে পান করা এড়িয়ে চলুন, অন্যথায় এই রোগ বাড়তে পারে। এছাড়াও কিডনির পাথর বের করতে হলে বেশি বেশি করে জল পান করতে হবে।
পাথর দূর করার ঘরোয়া উপায়
কিডনি পাথর দূর করার জন্য অন্যান্য ঘরোয়া প্রতিকারের কথা যদি বলতে হয়, তাহলে পাথরকুচি পাতার রস, লেবুর রস, পেঁয়াজের রস, গাজরের রস, আনারসের রস এবং আখের রসের মতো জিনিসগুলি উপকারী প্রমাণিত হয়।
No comments:
Post a Comment