মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার জন্য রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরি করেছেন। সরকার বাইরে না গিয়ে রাজ্যের অভ্যন্তরে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে মরিয়া। আর এ কারণেই সরকারি সেবায় চিকিৎসা নিতে আগ্রহী সাধারণ মানুষ। অনেকেই সরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল।
কিন্তু অদ্ভুত এক ছবি ধরা পড়ল বোলপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। ডিসপোজেবল সিরিঞ্জের অপর্যাপ্ত সরবরাহ। এতে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের পরিবারকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এমনই অভিযোগ সোমবার বোলপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা জানান, "চিকিৎসকরা রোগী দেখেই ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। কিন্তু তাদের বাইরে থেকে ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ কিনতে বলা হচ্ছে। ফলে রোগীর সঙ্গে আসা স্বজনরা সিরিঞ্জ কিনতে মরিয়া হয়ে এখানে-সেখানে ছুটছেন। তারা বুঝতে পারছেন না যে তারা রোগী দেখবে নাকি সিরিঞ্জ কিনতে ছুটবে।"
রোগীও একই সমস্যার সম্মুখীন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসা এক রোগী জানান, পেটের সমস্যায় সোমবার সকালে তিনি একাই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসেছিলেন। কিন্তু একা থাকা সত্ত্বেও তাকে বাইরের দোকানে সিরিঞ্জ কিনতে পাঠানো হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাকেও এই দুর্ভোগে পড়তে হয়।
এখন প্রশ্ন হলো সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই দুর্দশা কেন? কেন পর্যাপ্ত সিরিঞ্জ নেই? এই ক্ষুদ্র ডিসপোজেবল সিরিঞ্জের সেবা পেতে রোগীর পরিবারকে কেন ছুটতে হচ্ছে?
এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সব মধ্যবিত্ত, দরিদ্র মানুষ সঠিক চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু চরম নির্যাতনের মুখে এসব পরিবারের সদস্যরা। এই সমস্ত ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ এবং অন্যান্য আইটেম সরকারী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। কিন্তু সরবরাহের অভাবে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক।
No comments:
Post a Comment