প্রেসকার্ড নিউজ ডেস্ক :যদি আপনি ডায়াবেটিসের রোগী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার খাদ্যতালিকায় অবশ্যই কাঁঠালের আটা অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। খারাপ জীবন যাপন এবং খাদ্যাভ্যাসের জন্য প্রায় ৭ কোটি মানুষ ডায়াবেটিসের শিকার। এক রিপোর্ট অনুসারে ২৫ শতাংশ মানুষ করোনা থেকে মুক্তির পর তাদের ব্লাড সুগারের লেভেল বাড়ার সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের তেলেঙ্গানা এবং অন্ধ্র প্রদেশে ডায়াবেটিসের ঘটনা অনেক বেশি। ব্লাড সুগারের সমস্যায় শুধু বড়রাই নয় উপরন্তু ছোটরাও খুব দ্রুত এর শিকার হচ্ছে। ব্লাড সুগার লেভেল নরমাল রাখার জন্য ভীষণ জরুরি যে আপনারা খাবার দাবারের প্রতি যাতে বিশেষ নজর দেন।
অন্দ্র প্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রের ডাক্তাররা এই সময় ডায়াবেটিসের রোগীদের কাঁঠাল খাবার পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে, আন্তর্জাতিক পত্রিকা ' ন্যাচার ' এ প্রকাশিত এক খবর অনুযায়ী কাঁচা কাঁঠাল অনেকটাই ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। পুণের চেলারাম ডায়াবেটিস ইনস্টিটিউট -এর সিইও এজি উন্নিকৃষ্ণান এবং শ্রিকাকুলাম সরকারি মেডিকেল কলেজের এর সাধারণ চিকিৎসার সহায়ক প্রফেসর ডাঃ গোপাল রাও এই বিষয়ের উপর গবেষণা করছেন। গবেষকরা এই বিষয়ে এক পরিণামে আসতে পেরেছেন যে এটি লাগাতার ৮ দিন খেলে ব্লাড সুগারের লেভেল অনেকটাই ঠিক হয়েছে।
আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা খবর অনুযায়ী ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এটি অনেক গুরুত্বপূর্ন ওষুধ প্রমাণ হতে পারে। সেই মত পরীক্ষা করে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ৪০ জন রোগীকে ৩ মাস অবধি গম-চাল এর জায়গায় প্রতিদিন ৩০ গ্রাম কাঁঠালের আটা খেতে দেওয়া হয়েছিল। তিন মাসের এই পর্যবেক্ষণে ব্লাড সুগার, ভোজন পরবর্তী ব্লাড সুগার এবং গ্লাইকো সাইলেটেড হিমোগ্লোবিন (HbA1c) এর লেভেল অনেক কম পাওয়া গেছে। সেইসাথে রোগীদের ওজনও অনেকটাই কমে গেছে। কাঁচা কাঁঠালে ফাইবারের সাথে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম, অ্যান্টি অক্সিডেন্টস পাওয়া যায়।
কাঁঠালের আটা তৈরির প্রক্রিয়া :
সবার প্রথমে কাঁঠালের ফলের থেকে বীজ বের করে ভালো করে শুকিয়ে নিতে হবে। শুকিয়ে যাবার পর এর উপরের ছাল বের করে সরিয়ে নিতে হবে। এরপর কাঁঠালের বীজ কেটে পিষে নিতে হবে। আপনার কাঁঠালের আটা এরপর তৈরি হয়ে যাবে। আপনি প্রতিদিন ৩০ গাম কাঁঠালের আটা গম, জব, মকাই এর আটার সাথে মিলে খেতে পারেন।

No comments:
Post a Comment