প্রতীকী ছবি
প্রেসকার্ড নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ দিন ধরে কৃষি আইন বাতিলের দাবীতে দিল্লী সীমান্তে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকেরা। বজায় রয়েছে উত্তেজনা, আর তারই মাঝে আত্মহননের পথ বেছে নিলেন এক কৃষক। রবিবার দিল্লীর টিকরি সীমান্ত লাগোয়া পার্কের কাছে তাঁবুর বাইরেই একটি গাছ থেকে ওই কৃষকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। সেই সাথেই উদ্ধার হয় একটি চিঠি, যাতে সরকারের দিকেই তোলা হয়েছে আঙুল।
মৃত ওই কৃষকের নাম করমবীর সিং। হরিয়ানার জিন্দের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। জানা গিয়েছে, আরও আটজনের সঙ্গে তাঁবু ভাগ করে থাকছিলেন তিনি। বিগত দু-তিনদিন ধরে চিন্তিত থাকলেও সাথে থাকা কেউই বুঝতে পারেননি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন তিনি।
তাঁরা জানান, বিগত দুই তিনদিন ধরেই চিন্তিত ছিলেন তিনি। মাঝেমধ্যেই বলতেন যে কেন্দ্র আইন প্রত্যাহারের বিষয়ে কিছুই করছে না। করমবীর যেহেতু আমাদের মধ্যে বয়সে সবথেকে বড় ছিলেন, তাই ওনাকে আমরা নিজেদের নেতা তথা অভিভাবক হিসাবেই ভাবতাম।
অন্য একজন কৃষক বলেন, “শনিবার রাত ১১টা নাগাদ শেষবারের মতো করমবীরকে দেখা যায়। আমরা সবাই একসঙ্গে বসে তাস খেলছিলাম। তারপর উনি শৌচালয়ে যান এবং এসে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনি কেউ একজন আত্মহত্যা করেছেন। তখনও ভোরের আলো না ফোটায় মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে দেখি করমবীর গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে।” আন্দোলনকারীরা আরও জানান, করমবীরের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেয়েই পুলিশে খবর দেওয়া হয়। তাঁরা সকাল সাতটা নাগাদ এসে দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। বাহাদুরগঢ়ে ময়নাতদন্ত করা হবে।
করমবীরের মৃতদেহের পাশে উদ্ধার হওয়া সেই চিঠিতে লেখা রয়েছে, “ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন জিন্দাবাদ। প্রিয় কৃষক ভাইয়েরা, মোদী সরকার, একের পর এক দিন দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কবে এই কালা আইন প্রত্যাহার করা হবে, সেই বিষয়ে বলা হচ্ছে না। এই আইন প্রত্যাহার না করা হলে আমরাও এখান থেকে যাব না।”

No comments:
Post a Comment