করোনা রিপোর্ট নিয়ে বিভ্রান্তির অভিযোগের মধ্যেই মৃত্যু হল বারাসতের ভানুরঞ্জন মুহুরির (৬৫) নামে কোভিড আক্রান্ত বৃদ্ধের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্য আঙুল তুলেছেন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দিকে। তাদের দাবী বিভ্রান্তিকর রিপোর্টের জন্য তার মৃত্যু হিয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ঘিরেও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন চিহ্ন।
মৃতের বাড়ী, উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের কাজিপাড়ার সুবর্ণপত্তন এলাকায়। এদিন বারাসতের চাপাডালি মোড় সংলগ্ন একটি কোভিড হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয়েছে তার। ভানু মুহুরীর পরিবারের অভিযোগ, এমাসের ১১ তারিখ বারাসত হাসপাতালে জ্বর ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন ভানু মুহুরী। দুদিনের মধ্যে তাঁকে ছেড়েও দেওয়া হয় কোভিড রিপোর্ট নেগেটিভ জানিয়ে। ১৩ তারিখ হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পরে ১৭ তারিখ ভানু মুহুরীর পরিবারকে জানানো হয়েছে ভানু মুহুরীর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ। একবার রিপোর্ট নেগেটিভ হওয়ার পরে আবার রিপোর্ট পজিটিভ আসার বিষয়টি জেনে বিভ্রান্ত হয় পরিবার। তথাপি তড়িঘড়ি তাঁকে বারাসতের একটি কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মঙ্গলবার। কিন্তু তাঁকে বাঁচানো যায় নি। পরিবার আঙ্গুল তুলছে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ত্রুটি এবং গাফিলতির দিকে।
এ বিষয়ে বারাসত হাসপাতাল বিভ্রান্তির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ক্যামেরার সামনে না আসলেও হাসপাতালের আধিকারিকদের বক্তব্য, র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ আসতেই পারে।কিন্তু চিকিৎসকদের সন্দেহ হওয়ায় তার ফের সোয়াব পরীক্ষা করা হয়। সেক্ষেত্রে রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। সেই বিষয়টি বারাসত হাসপাতালের করোনা কন্ট্রোলরুম থেকে ফোন করে জানানো হয়েছিল। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর থেকেও জানানো হয়েছিল তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এখানে রিপোর্টের বিভ্রান্তি নেই।
কিন্তু পরিবার প্রশ্ন তুলছে যদি চুড়ান্ত রিপোর্টে কোভিড পজিটিভ আসার আশংকা থেকে থাকে তাহলে রিলিজ দেওয়া হয়েছিল কেন? ভানু মুহুরীর পরিবার বারবার বলছে, ১১ থেকে ১৩ আগস্ট এই দুদিন শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি ছিলেন। তারা র্যাপিড, অ্যান্টিজেন টেস্ট বা আর টি পি সি আর বোঝেন না। মৃতের স্ত্রী মীরা মুহুরী বলছেন, যা টেস্ট ১১ থেকে ১৩ তারিখে হয়েছে। ওই সময়ের পরে তাঁর কোন টেস্ট হয় নি। কিন্তু রিপোর্ট নেগেটিভ জানিয়ে ১৩ আগস্ট বারাসত হাসপাতাল থেকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয় ভানু মুহুরীকে।
স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, রিপোর্ট পজিটিভ আসার সম্ভাবনা থাকলে কি ভাবে ছুটি দেওয়া হয় ভানু মুহুরীকে? বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য, পরিবারের বক্তব্য মৃত্যুর আগে সাতদিন ধরেই টানা শ্বাসকষ্ট ছিল ভানু মুহুরী। শেষে তাঁর কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে এবং তিনি মারা গেছেন। তাঁর আগে চারদিন কোভিড নেগেটিভ হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন ভানু মুহুরী। যখন তাঁকে জানানো হল কোভিড পজিটিভ তখন তিনি বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু পথযাত্রী। অবশেষে কোভিড হাসপাতালে ভর্তির কয়েকঘন্টার মধ্যে তিনি। তাঁর মৃত্যুর দায় কে নেবে? তাঁর মৃত্যুর আগে তাঁর মাধ্যমে অধিকতর মারণ ভাইরাস সংক্রমণের দায় কি বারাসত হাসপাতালের নয়?
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কোভিড হাসপাতাল থেকে মৃত্যুর খবর জেনে বাড়ী ফিরে আসা মৃতের স্ত্রী ও ভাই মানসিক ভাবে কষ্টে আছেন, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে ক্ষুব্ধ আছেন এবং তাঁরা হোম কোয়ারেন্টিনে বা আইসোলেশনে নেই।

No comments:
Post a Comment