দুই সপ্তাহের হোম কোয়ারেন্টাইন শেষে বাড়ীর সামনে বের হয়ে লেন লাহিফি দেখেন একটি নজরদারী ক্যামেরা তার দিকে তাক করা আছে। তবে কোন ধরনের সতর্কতা ছাড়াই কে এসে ক্যামেরা সেট করে দিয়েছেন তা তিনি জানেন না। তবে এটা চরমভাবে ব্যাক্তিগত গোপনীয়তার লঙঘন বলে মনে করেন লেন।
যদিও কবে থেকে কোয়ারেন্টিনে থাকা মানুষের বাড়ীর সামনে ক্যামেরা সেট করা শুরু হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে চীনের অনেক শহরে এমনটা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সামাজিক পোস্ট ও সরকারী বক্তব্য বিশ্লেষণ করে সংবাদ প্রকাশ করেছে সিএনএন। চীনা আইনে নজরদারী ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোন আইন না থাকলেও এটা এখন চীনাদের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির নাগরিকরা যখন রাস্তায় চলাচল করে, শপিংমলে যায়, রেস্টুরেন্টে খাবার খায়, বাসে চলাচল করে এমনকি ক্লাসরুমেও তাদের ক্যামেরা দিয়ে নজরদারী করা হয়।
দেশটির সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির সূত্রমতে শুধু ২০১৭ সালেই চীনে ২ কোটি নজরদারী ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। তবে অনেক সূত্র বলছে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। তবে ২০১৮ সালে দেশটিতে ৩৪ কোটি ৯০ লাখ ক্যামেরা স্থাপন করা হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ৫ গুণ বেশি। ২০২১ সালের মধ্যে চীন যুক্তরাষ্ট্রের মোট ক্যামেরার চেয়ে ৬ গুণ বেশি নজরদারী ক্যামেরা স্থাপন করতে যাচ্ছে।
যুক্তরাজ্য ভিত্তিক প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘কমপারিটেক’ এর তথ্যমতে বিশ্বের সবচেয়ে নজরদারী করা ১০ শহরের মধ্যে ৮ টির অবস্থান চীনে। তবে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে এখন পাবলিক স্থান থেকে মানুষের বাড়ীর দরজার সামনে ক্যামেরা বসে যাচ্ছে দেশটিতে। ক্ষেত্রবিশেষে কখনও কখনও মানুষের ঘরের ভেতরেও ক্যামেরা স্থাপনের ঘটনাও ঘটছে চীনে।

No comments:
Post a Comment