আজকালকার শিশুদের খাওয়ানো মানে রীতিমত যুদ্ধ করা। আমাদের শৈশবে মায়েরা যেমন ভুলিয়ে বা কোনও গল্প বলে খাওয়াতেন, আজকের ব্যস্ত দিনে সে সময়টারই বড় অভাব। তাই আমরা শিশুদের খাওয়াতে ডিজিটাল মাধ্যমের সাহায্য নিয়ে থাকি এবং অনেক সময় বিরক্ত হয়ে অল্প কিছু খাইয়ে তাদের ছেড়ে দিই। কিন্তু এতে শিশুদের পুষ্টি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাই আজকের প্রতিবেদনে থাকছে এমন কিছু কথা, যাতে শিশুদের খাওয়াতে আপনাকে বেশি কষ্ট করতে না হয়, আল তাদেরও পুষ্টির ঘাটতি না হয়।
চাই বৈচিত্র্য
একটানা অনেক দিন ধরে একই ধরনের খাবার খেলে শিশু খাবারের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। পুষ্টিকর খাবার তো দেবেনই, আর তা মজাদার উপায়ে তৈরি করে দিন ঘরে। শুধু খিচুড়িই নয়, শিশুকে ভাত, ডাল, সবজি, মাছ, মাংস সবই দিন। বাড়ির বড়রা যা খাচ্ছেন, সেগুলো খেতেই অভ্যস্ত করুন ধীরে ধীরে। ছয় থেকে আট মাস বয়স পর্যন্ত প্রতিদিন তিন বেলা ঘরে তৈরি খাবার দিন। আট মাস বয়স থেকে এর পাশাপাশি দুই বেলা হালকা টিফিন দিতে হবে। এক বেলা টাটকা মৌসুমি ফল দিতে পারেন। অন্য বেলা হয়তো ঘরে তৈরি কোনও খাবার। একেক দিন একেক রকম খাবার দিতে চেষ্টা করুন।
খাওয়ায় আগ্রহী করতে আরও যা
শিশুকে নিজে নিজে খাবার খেতে অভ্যস্ত করে তুলুন। পরিবারের সবার সঙ্গে শিশুকে বসিয়ে খাওয়ান। শিশুর খাবারে অতিরিক্ত ঝালও দেবেন না, আবার একেবারে ঝাল ছাড়া রান্না করারও প্রয়োজন নেই। খাবারটা মজা করে পরিবেশন করার কিংবা মজার গল্পের সঙ্গে পরিবেশন করার চেষ্টা করতে পারেন। খেলার ছলেই খাইয়ে দিন শিশুকে।
জেনে নিন
● এক বছর বয়স পর্যন্ত প্রথমে বুকের দুধ খাইয়ে এরপর ঘরে তৈরি বাড়তি খাবারটা শিশুকে খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে।
● এক বছর পার হলে দুই বছর বয়স পর্যন্ত খাওয়ানোর সময় প্রথমে ঘরের খাবার খাইয়ে, মুখ মুছিয়ে দিয়ে এরপর মায়ের দুধ দিন।
● টেলিভিশন, মুঠোফোন, কার্টুন প্রভৃতি দেখিয়ে খাওয়ানো যাবে না।
● ১৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে একবারের খাবার নিয়ে বসে থাকা যাবে না। শিশুকে ১৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে খাওয়ার কথা বলবেন না। খেতে বসেও খুব ধীরভাবে খেতে দেবেন না। খুব ধীরে খেলে খাবারের গুণ নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তী খাবারের জন্য ক্ষিদে ও কমে আসে।
● ছয় মাস অন্তর নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওজন দেখার জন্য শিশুকে নিয়ে যেতে পারেন। সেখানে থাকা তালিকা (বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী শিশুর ওজনের নির্দেশক চার্ট) দেখে বোঝা যাবে, আপনার শিশুর বৃদ্ধি সঠিকভাবে হচ্ছে কি না। প্রয়োজনে এক মাস অন্তর ওজন মাপাতে পারেন। মাপার পর চার্টে মিলিয়ে দেখতে হবে।
এরপরেও বলব, যদি খাওয়ানো নিয়ে বিশেষ সমস্যার সম্মুখীন হন, অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।

No comments:
Post a Comment