করোনা গুজবে আতঙ্কিত চিকিৎসক পরিবার, সামাজিক বয়কটের ডাক দিয়েছে গ্রামের মানুষ। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার মাটিয়া থানা দক্ষিণ মথুরাপুর গ্রামের ঘটনা। চীন ফেরত চিকিৎসক ঋতুপর্ণা মন্ডল, এখন কর্মরত দিল্লিতকস্তুরী বা হাসপাতালে। চিকিৎসক পরিবার রাস্তা ঘাটে কর্মস্থলে গেলে করোনা হয়েছে তাদের বড় মেয়ে চিকিৎসক ডক্টর ঋতুপর্ণা মন্ডলের। এই নিয়ে বসিরহাটে খোলাপোতা গুজব ছড়িয়েছে।
এমনকি মা রেনুকা মন্ডল, ধান্যকুড়িয়া হেলথ সুপারভাইজার তার কাছেও ফোন যাচ্ছে বিভিন্ন দিক থেকে ।বাবা তিলক মন্ডল, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার দিন রাতে ফোন আসছে। তাদের বাড়ি মহিলা চিকিৎসকের করোনা হয়েছে বলে। বোন রনিতা মণ্ডল, (চ্যাটার) ইঞ্জিনিয়ার। তার কাছে বিভিন্ন দিক থেকে ফোন আসছে।
সবমিলিয়ে মন্ডল পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এমনকি চিকিৎসক পরিবারের পরিচারিকার কাজ করে কোহিনুর বিবি, তাকেও রীতিমতো জবাবদিহি করতে হচ্ছে মানুষের কাছে। এমনকি চিকিৎসক পরিবারে বাড়িতে কাজ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে বসিরহাটের খোলাপাতা কান পাতলে শোনা যাবে করোনার গুজব ছড়িয়েছে।
চিকিৎসক পরিবারে ডাক্তার ঋতুপর্ণা মন্ডল এর সঙ্গে কথা বললে তিনি আবেদন জানিয়েছেন গুজবে কান দেবেন না।সম্পূর্ণ আমি সুস্থ আছি আমার কর্মস্থলেই রয়েছি। এমনকি তিনি একটি হোয়াটসঅ্যাপ ফেসবুকে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। অহেতুক গুজবে কান দেবেন না, যারা এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে তা সম্পূর্ণ না জেনেই করছেন।
এর মধ্যে ভয়ঙ্কর ঘটনা যে রীতিমতো চিকিৎসা পরিবার সামাজিক বয়কটের মধ্যে পড়েছে ।ডক্টর ঋতুপর্ণা মন্ডলের মা রেনুকা দেবি জানিয়েছেন যারা এই ঘটনা ঘটাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হোক। আমি একজন স্বাস্থ্যকর্মী আমার গোটা পরিবার তার চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত। আমরা মানুষকে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন রকম পদক্ষেপ ইতিমধ্যে নিয়েছি।
যেভাবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ দিয়েছে ।তাতে এই ধরনের গুজব মানা যায় না, এর সঠিক তদন্ত হোক।
খোলাপোতা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অপরেশ মুখার্জি, বলেন যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সতর্ক থাকার কথা বলছেন, গুজব ছড়াবেন না আমরা সবরকম ব্যবস্থা করছি। যারা এই ধরনের গুজব ছড়াচ্ছেন তাদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments:
Post a Comment