এবছরই প্রথম নিজেদের মাতৃভাষায় সমস্ত বিষয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার সুযোগ পেল রাজ্যের সাঁওতালী মাধ্যমের ছাত্র ছাত্রীরা। নিজের মাতৃ ভাষায় উচ্চ মাধ্যমিকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় বসতে পেরে স্বাভাবিক ভাবেই খুশি সাঁওতাল ছাত্র ছাত্রীরা।
মাতৃভাষা মাতৃ দুগ্ধের সমান। এই আপ্ত বাক্যকে সামনে রেখে নিজেদের মাতৃ ভাষার মর্যাদার দাবিতে এ রাজ্যের মানুষ দেখেছে সাঁওতালদের লাগাতার আন্দোলন। দিনের পর দিন জঙ্গলমহল সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার সাঁওতালী ভাষাভাষি মানুষ নেমেছেন বনধ অবরধের পথে।
অবশেষে ২০০৩ সালে ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তপশীলে স্বতন্ত্র ভারতীয় ভাষা হিসাবে সাঁওতালী ভাষা স্বীকৃতি লাভ করে । এর পর শুরু হয় মাতৃ ভাষায় পড়াশোনা করার দাবি আদায়ের লড়াই। শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালে এ রাজ্যের সাঁওতাল প্রধান এলাকাগুলিতে প্রাথমিক স্তরে সাঁওতালী মাধ্যমে লেখাপড়া শুরু করে শিক্ষা দফতর।
এরপর ধাপে ধাপে একের পর এক ক্লাস পেরিয়ে ২০১৮ সালে প্রথম সাঁওতালী মাধ্যমে জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা মাধ্যমিকে বসে এ রাজ্যের ১৭৩ জন সাঁওতাল ছাত্র ছাত্রী । চলতি বছরই প্রথম অলচিকি লিপি ও সাঁওতালী মাধ্যমে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে এ রাজ্যের ১৬২ জন পড়ুয়া।
এরমধ্যে কলা ও বিজ্ঞান বিভাগ মিলিয়ে ৯১ জন পড়ুয়াই বাঁকুড়া জেলার। বাঁকুড়ার ৮ টি এবং পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম মিলিয়ে ৮ টি মোট ১৬ টি কেন্দ্রে সাঁওতালী মাধ্যমের পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেল। নিজের মাতৃ ভাষায় উচ্চ মাধ্যমিকের মতো বড় পরীক্ষা দিতে পেরে স্বাভাবিক ভাবেই খুশি পড়ুয়ারা। খুশি সাঁওতালদের একাধিক সামাজিক সংগঠনও।
সাঁওতালী মাধ্যমে পড়ানোর মতো কলেজের পরিকাঠামো এখনও তৈরি নেই এ রাজ্যে । সাঁওতালী মাধ্যমের পড়ুয়া ও অভিভাবকদের দাবি দ্রুত সাঁওতালী মাধ্যমে পড়ানোর মতো কলেজের পরিকাঠামো তৈরিতে এগিয়ে আসুক বিশ্ব বিদ্যালয়গুলি।

No comments:
Post a Comment