মজার এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা চোখে জল আসার মতো সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন, তারা সিনেমা দেখার সময় অন্যদের তুলনায় বেশি পপকর্ন খেয়ে থাকেন।
গবেষণাগারে চালানো এক গবেষণার ফলাফল থেকে জানা যায়, হাসির সিনেমা ‘সুইট হোম অ্যালাবামা’ দেখার সময় দর্শকরা যে পরিমাণ পপকর্ন খেয়েছেন, সেটার চাইতে দুঃখের ছবি ‘লাভ স্টোরি’ দেখার সময় ২৮ শতাংশ বেশি পপকর্ন খেয়েছেন।
একটি থিয়েটারে ফেলে দেওয়া পপকর্ন আর পপকর্নের প্যাকেট গুনে গবেষকরা জানান, যারা হাসির সিনেমা ‘মাই বিগ ফ্যাট গ্রিক ওয়েডিং’ দেখেছিল তাদের তুলনায় যারা দুঃখের সিনেমা ‘সোলারিজ’ দেখেছেন তারা ৫৫ শতাংশ বেশি পপকর্ন খেয়েছেন।
ভালো খবর হচ্ছে পপকর্ন স্বাস্থ্যকর খাবার।
এই গবেষণায় আরও কিছু মজার তথ্য জানা গেছে বলে জানান, গবেষণার মূল লেখক কর্নেল ইউনিভার্সিটির ব্রায়ান ওয়ানসিঙ্ক।
তিনি বলেন, “মন খারাপ হওয়ার সিনেমা দেখার ফলে, সামনে স্বাস্থ্যকর খাবার দেখলে সেটি খাওয়ার আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। তাই চাইলে এভাবে ফলমূল এবং শাকসবজি খাওয়ার পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।”
তাদের করা সম্পূরক এক গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যাকশন এবং অ্যাডভেঞ্চার সিনেমা দেখার সময়ও ক্যালরিসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার ঝোঁক বাড়ে। তবে সেই খাবার থাকতে হবে হাতের নাগালে।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক গবেষক এবং গবেষণাপত্রের সহকারী রচয়িতা আনের টাল আরও বলেন, “অ্যাকশনধর্মী সিনেমার গতির সঙ্গে মনে হয় মানুষের খাওয়ার গতিও বাড়ে। তবে সিনেমাগুলো ‘ইমোশনাল ইটিং’ বা আবেগপ্রবণ হয়ে খাওয়ার পরিমাণও বাড়ায়। এটা যেন খাবার খেয়ে খারাপ লাগার ক্ষতিপূরণ করার একটা চেষ্টা।”
তিনি পরামর্শ দেন “এক্ষেত্রে সিনেমা দেখার সময় স্ন্যাকস হাতের নাগালের বাইরে রাখুন। সেগুলো রান্না ঘরেই থাক। শুধু যা খেতে চান তাই নিয়ে বসুন। হালকা পাতলা থাকার জন্য অন্য নকশার চাইতে ইচ্ছাশক্তি ব্যবহার করা অনেক সহজ।”
জেএএমএ ইন্টারন্যাশনাল মেডিসিন রিসার্চ লেটার’য়ে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়।

No comments:
Post a Comment