প্রতীকী ছবি
কানের ব্যথায় ছটফট করছিলেন এক ব্যক্তি। ব্যথা এতোই তীব্র হয়ে ওঠে যে এক সময় প্রাণ চলে যাওয়ার উপক্রম। আর সইতে না পেরে চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হন তিনি।
তিনি ভেবেছিলেন, কানে হয়তো ময়লা জমেছে অনেক। তাই বলে এতো যন্ত্রণা! আবার ভাবছিলেন মশা-পিঁপড়া ঢুকে পড়েনি তো!
আর রোগীর সেই ধারণাকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে বললেন চিকিৎসক। এ খবরে প্রথমে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন উপস্থিত অনেকে।
তিনি জানালেন, ময়লা, মশা-মাছি বা পিঁপড়া নয়, কানের ভেতর বাসা বেঁধেছে আশোলার আস্ত পরিবার। একটি-দুটি নয়, ওই ব্যক্তির কানের ভেতর থেকে গুণে গুণে ১০টি আরশোলার বাচ্চা বের করলেন চিকিৎসক।
অবাক করার মতো ঘটনা হলেও এমন ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে চীনের হুইজহউ শহরের সানহে হাসপাতালে।
ফক্স নিউজ জানাচ্ছে, সম্প্রতি এলভি নামের ২৪ বছর বয়সী এক যুবক কানের তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে গিয়েছিলেন সানহে হাসপাতালে।
সেখানে তিনি নাক-কান ও গলার চিকিৎসক ঝং ইজিনকে জানান, 'তীব্র ব্যথায় ঘুম ভেঙে গেছে আমার। টর্চের আলো ফেলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন কিছু একটা নড়ছে ভেতরে।'
এলভির এমন কথা শুনে সঙ্গেসঙ্গে পরীক্ষা করে দেখেন ঝং ইজিন। চোখ ছানাবড়া হয়ে যায় তার।
তিনি এলভি-কে জানান, ময়লা বা পিঁপড়া নয়, তার কানে অনেকগুলো তেলাপোকা বাসা বেঁধেছে। তার মধ্যে একটি বেশ বড়।
ফক্স নিউজকে চিকিৎসক ঝং ইজিন বলেন, ওই রোগী এসে বলেছিলেন যে, তার কানের প্রচুর ব্যথা হচ্ছে। যেন কানের মধ্যে কেউ আঁচড় কাটছে বা সুড়সুড়ি দিচ্ছে। এতে প্রচুর অস্বস্তি হচ্ছিল তার।
তিনি আরও বলেন, 'আমি তার কানের ভেতর থেকে ১০ টিরও বেশি তেলাপোকার বাচ্চা আবিষ্কার করেছি। আলো দেখে ওরা কানের ভেতরে দৌড়ে বেড়াচ্ছিল। ভাগ্যিস সময়মতো এগুলোকে বের করা গিয়েছে। নইলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারত। বধির হয়ে যেতে পারতেন তিনি।'
তিনি জানান, একটি টুইজারের সাহায্যে ওই আরশোলার বাচ্চাগুলোকে কানের ভেতর থেকে বের করে আনা হয়। ঠিক কতদিন ধরে আরশোলার বাচ্চারা ওখানে বাসা বেঁধেছিল, আর কেনই বা এলভির কানকে তাদের পছন্দ হয়েছিল, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি চিকিৎসক ডা. ঝং ইজিন।
তবে ডা. ইজিন স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, এলভির অভ্যাস ছিল নিজের বিছানার পাশেই আধ খাওয়া খাবারের প্যাকেট রেখে দিতেন। সম্ভবত, ওই খাবারের লোভে আরশোলা তার কানের কাছে এসে কানের ভেতরে ঢুকে পড়ে।
জানা গেছে, এলভির মতোই এমন করুণ দশা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়। সেখানে এমনই এক অদ্ভুতুড়ে ঘটনা ঘটেছিল এক নারীর সঙ্গে। তার কানের মধ্যে নয় দিন ধরে একটি আরশোলা সংসার পেতেছিল।

No comments:
Post a Comment