মিশরের পিরামিড এবং মমির কথা সবাই শুনেছে। কিন্তু চিৎকাররত মমি সবাইকে এখনো বিস্মিত করে। সাল ১৮৮৬, জুন মাসে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে একদিন মিশর প্রত্নতাত্বিক বিভাগের এর প্রধান গাস্টন মাস্পেরো, ভ্যালি অব দ্যা কিংগ এর গুপ্ত গুহার মধ্যে থেকে উদ্ধারকৃত ৪০ জন রাজা এবং রাণীর মমি খুলে দেখছিল। ১৮৮১ সালে সমাধিগুলো আবিষ্কার হওয়ার পর থেকে, কাইরো হতে ৩০০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত ডেইর ই বাহেরি উপত্যকাতে অসংখ্য এবং একই সাথে বিস্মিত করার মত কিছু মমি আবিষ্কার হয়েছিল।
এর মধ্যে কিছু মমি হারিয়ে যাওয়া মিসরীয় সভ্যতার বিখ্যাত কিছু ফারাও যেমন – রামাসেস দ্যা গ্রেট, সেতি প্রথম এবং টুথমসিস তৃতীয় ছিল এই মমি গুলোর সাথে আরও একটি মমি আবিষ্কার করা হয়েছিল... যা এগুলো থেকে কিছুটা পৃথক এবং বেশি আশ্চর্যজনক ছিল এই মমিটি পাওয়া গিয়েছিল একটি সাদামাটা কফিনে... এবং এর কোন পরিচয় সেখানে উল্লেখিত ছিল না।
মাস্পেরো যখন ধাঁধা সদৃশ এই কফিনটি খুলেছিল সে এক কথায় অত্যন্ত পরিমাণে বিস্মিত হয়েছিল কি ছিল সেই কফিনে?? সেখানে ছাগল অথবা ভেড়ার চামড়া দিয়ে আচ্ছাদিত (যা প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতায় অত্যন্ত ঘৃণ্য বস্তু হিসেবে দেখা হত) একজন যুবকের দেহ পাওয়া গিয়েছিল যার মুখে জমাটবদ্ধ রক্তের সাথে, তীব্র চিৎকারের চিত্র ফুটে উঠেছিল তার মরে যাওয়ার হাজার বছর পরেও।
এই মমিটিকে দেখে তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, মৃত্যুর পূর্ববর্তী সময় তাকে অনেক নির্যাতন করা হয়েছিল... যে ব্যাথার চিত্র তার মুখ থেকে মৃত্যু পরবর্তী সময় পর্যন্ত যায়নি। তার হাত এবং পা অনেক শক্ত করে বাঁধা ছিল... এবং তাকে মমি অবস্থায় যখন পাওয়া যায় তখনও তার হাত পা সেরকম ভাঁজ অবস্থাতেই ছিল। পরবর্তীতে মাস্পেরোর উপস্থিতিতে ড্যানিয়েল ফাকেট নামের একজন ডাক্তার ১৮৮৬ সালে তাকে নিয়ে গবেষণা করে আবিষ্কার করে দেখে তাকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয় এবং তাকে “মান ই” নামে তারা নামাঙ্কিত করে।
মিসরীয় সভ্যতায় কখন কোন মমির পরিচয় তার কফিনে লেখা হত না জানেন? মিসরীয়দের মতে তাদের কফিনে নাম লিখার সাথে তাদের পরবর্তী জীবনের একটি যোগসূত্র রয়েছে যদি কেউ তাদের বিরাগভাজন হত অথবা অত্যন্ত ঘৃণ্য... সেই সব মানুষের পরবর্তী জীবনে তাদের যেন কোন পরিচয় না থাকে সে ব্যবস্থা করার জন্য তারা তাদের পরিচয় গুপ্ত রাখত!
ইতিহাসবিদরা ধারণা করেন এই “মান ই” রামেসেস তৃতীয় এর প্রতারক পুত্র রাজপুত্র পেন্টেওয়েরে ছিল যে তার বাবাকে সরিয়ে তার সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হতে চেয়েছিল আবার কেউ কেউ ধারণা করেন এটি মিসরীয় কোন প্রশাসকের ছিল যে দেশের বাইরে মারা গিয়েছিল এবং তাকে সমাধিস্থ করতে এই অবস্থায় দেশে পাঠানো হয়েছিল।
কেউ কেউ তার অদ্ভুত ধরণের মমিকরণের প্রক্রিয়া দেখে ধারণা করেন এই মমিকৃত যুবকটি আদৌতে মিসরীয় ছিল না বরং সে শত্রু কূল হিত্তি গোষ্ঠীর লোক ছিল... যার জীবনাবসান হয় মিশরের মাটিতে এসে এ সবই ধারণা আজ পর্যন্ত রহস্য থেকে গেছে !
পি/ব
No comments:
Post a Comment