ময়ূখ বসুঃ আজকের কল্লোলিনী তিলোত্তমার পথ চলা শুরু সেই ১৬৯০ থেকে। সে দেখেছে অনেক উত্থান-পতন৷ এই কলকাতা ১৯০৫ সাল পর্যন্ত ভারতের রাজধানী ছিল৷তখন থেকে ভারতের সংস্কৃতির পীঠস্থান আমাদের শহর কলকাতা৷ জোব চার্নক নামে এক সাহেব বাংলায় এসে কলকাতা, গোবিন্দপুর ও সুতানুটি এই তিনটি গ্রাম নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন আজকের কলকাতা।
কলকাতা ও বাঙালি ওতোপ্রতভাবে জড়িত৷ বাঙালির শিক্ষা, সংস্কৃতি সবটাই এই শহরটাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে৷ কত শত কাহিনি আছে কলকাতার৷ বিপ্লব ঘটিয়েছে কলকাতা৷ রামকৃষ্ণ- বিবেকানন্দ বাঙালিকে উদারতার পাঠও দিয়ে গেছেন৷ রামমোহন-বিদ্যাসাগর ভেঙে দিয়েছেন যাবতীয় কূ-সংস্কার৷ আজকে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক, উদারতার জন্মদিয়ে গিয়েছেন তাঁরা৷ দ্বারকানাথ ঠাকুর এই কলকাতা থেকেই দেখিয়েছেন চাইলে বাঙালি ইংরেজদের সমকক্ষ শিল্পপতি হতে পারে৷
সিরাজ ইংরেজদের এই কলকাতায় জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছিলেন৷ তবে শেষ রক্ষা করতে পারেননি৷ তাঁর সেই আগুনকে বাড়িয়ে নিয়ে গিয়েছে বাঙালি বিপ্লববাদ৷ ইংরেজদের বিরুদ্ধে আপোশহীন সংগ্রাম দেখেছে কলকাতা৷ শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ ভারতে সব রাজ্যের চেয়ে এগিয়ে কলকাতা৷ নারী শিক্ষায় এগিয়ে কলকাতা৷ চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও পথিকৃৎ কলকাতা৷ শিক্ষা থেকে সংস্কৃতি সবেতেই আলো দেখিয়েছ কলকাতা যুগ যুগ ধরে৷
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম কলকাতায়৷ কলকাতাকে কেন্দ্র করে বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বের আঙিনায় পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি৷ সাহিত্য-সংগীতকে বার বার পথ দেখিয়েছে কলকাতা৷ দেশের বৌদ্ধিক স্তরের বিকাশ এই কলকাতাতেই ঘটেছিল৷ কলকাতা মানেই ছিল বাংলা৷ এই জন্য গোখেল বলেছিলেন বাংলা আজ যা ভাবে, ভারত কাল তা চিন্তা করে৷ স্বাধীনতার যুদ্ধে ভারতকে পথ দেখিয়েছিল কলকাতা৷আবার এই কলকাতাই ছিল ভগিনী নিবেদিতা থেকে শুরু করে মাদার টেরিজার কর্মভূমি৷
ব্রিটিশদের বুটের সামনে ১১জন বাঙালির জোড়া খালি পা’র আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে জয় বাঙালির বীরগাঁথায় চিরকালের জন্য জায়গা করে নিয়েছে৷ বাঙালি দেখিয়েছে শুধু সাহিত্য নয় ক্রীড়াতেও তারা সেরা৷ দেখিয়েছে কলকাতা৷ কলকাতা দেখেছ বাংলা ভাগ৷ দেখেছ হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রাখিবন্ধন৷ দেখেছ এই দুইয়ের মধ্যে দাঙ্গাও৷ দেখেছে আরও অনেক কিছু৷ ৩৩০ বছরে বাঙালিদের রাজনীতির পটপরিবর্তনের সাক্ষীও এই কল্লোলিনী তিলোত্তমা৷
পি/ব
No comments:
Post a Comment