দেবশ্রী মজুমদার: বিয়ে স্বর্গে হয়। এই অসামান্য কথার অর্থ বোঝা সহজ নয়। তাই বেশিরভাগ বিয়ে ভেঙে যায়। অনেক ক্ষেত্রে বিয়ে টেকেনি তার প্রধান কারণ। আমরা পরস্পরের গুণগুলো স্বীকার করতে জানি না। পরস্পরের প্রশংসা করতে জানি না।পুরুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়। তারা ব্যস্ততার মধ্যে বেগ পেয়ে বেগবান হয়েছে। কিন্তু আবেগ হারিয়ে ফেলেছে জীবন থেকে।
কি করবেন? প্রথম পরামর্শ আপনার স্ত্রীর জন্মদিনে উইশ করুন। নিজের জন্ম দিন ভুলে যান ক্ষতি নেই। কিন্তু কখনও স্ত্রীর জন্মদিন ভুলবেন না। ব্যস্ততা থাকলে, ফেরার পথে গিফট উপহার দিন। সময় থাকলে বাড়ির কাছে ঘুরতে নিয়ে যান। নিদান পক্ষে একটা টেক্সট মেসেজ আর ফেরার পথে স্ত্রীর পছন্দের ফুল নিয়ে বাড়ি ঢুকুন।
স্ত্রী হয়তো কোন দিন ভালো সেজেছে। বা আপনার জন্য ভালো পদ রান্না করেছে। প্রশংসা করুন। বাথরুমে একটু গুনগুনিয়ে গান করছে। সুরটা হয়তো বেসুরো। বা সুরটা ঠিক ঠাক। কিন্তু গলা ভালো না। যেটা ভালো সেটাই খোলাখুলি স্বাভাবিক ভাবেই প্রশংসা করুন। তবে সাবধান! ভুল ভাল প্রশংসা করলে হিতে বিপরীত হতে পারে! প্রশংসা করুন। তবে তালকানা হবেন না। অন্য পুরুষের সামনে স্ত্রীর রূপের প্রশংসা কখনো করবেন না। তার নিদান দিয়েছেন ইংরেজি লেখক সেকসপিয়া(র)। একবার কোলাটাইন, টারকুইনকে গল্প করতে করতে নিজের স্ত্রী লুক্রিসির সৌন্দর্যের বর্ণনা করেছিলেন। আর যাই কোথা! অতিকৌতুহলী হয়ে টারকুইন কোলাটাইনের অনুপস্থিতিতে সটান হাজির লুক্রিসির কাছে। তারপর যা সর্বনাশ হওয়ার তাই হলো।
একটা বিষয় হয়তো নজরে আসলেও আসতে পারে, অনেক পুরুষ স্ত্রীর প্রশংসা করতে খুব কৃপণ। যতটা পরস্ত্রীর ক্ষেত্রে নন। আবার অনেকে মনে করেন, স্ত্রীর প্রশংসা করলে কপালে স্ত্রৈণ অপবাদ জুটবে। বিখ্যাত মানুষের ঠিকুজি দেখুন সবার একটু আধটু ওই অপবাদ আছে। শুধু স্ত্রীর সামনে নয়, পাবলিকলি তাঁর গুণের প্রশংসা করুন। আপনার এই প্রশংসার কথা যখন বহু পথ ঘুরে আপনার স্ত্রীর কানে পৌঁছুবে। তখন তার ফল আরও ফলপ্রদায়ী হবে।
এব্যাপারে, সেলফ ডিফেন্সে আপনি শাস্ত্রের সাহায্য নিতে পারেন। কিংবদন্তি আছে, গীতগোবিন্দ রচনায় এক জায়গায় কবি জয়দেবকে থামতে হয়েছিল। কৃষ্ণ রাধাকে বলছেন, তোমার পায়ের পাতা আমার মাথায় রাখো। খুব কাব্যি করে কথাটা কবি বলতে চাইছেন, কিন্তু পারছেন না। ভগবান কৃষ্ণের মাথায় রাধার পা। এ কি করে সম্ভব? তাই 'মম শিরসি মণ্ডনং' পর্যন্ত লিখে থেমে গেলেন। ' দেহি পদ পল্লব মুদারম' পর্যন্ত লেখার সাহস হলো না। তার লেখা অর্ধ সমাপ্ত রেখে স্নানে গেলেন। কিন্তু কৃষ্ণ ছিলেন মনোহরণকারী। নারী হৃদয় বুঝতেন। তাই কবি আসার আগেই স্বহস্তে লিখে যান-- 'দেহি পদ পল্লব মুদারম'। তাই নারীর পা ধরলে মান যায় না।
পি/ব
No comments:
Post a Comment