প্রাচীনকাল থেকেই ঐতিহ্যবাহী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা চলে আসছে চিকিৎসাশাস্ত্রে। আজও শিলাজিৎ, অশ্বগন্ধা, গিলয়, তুলসীর মতো আয়ুর্বেদিক ভেষজ ব্যবহার করে অনেক ধরনের রোগের চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু আপনি কি জানেন শ্বেত মুসলিও একই রকম আয়ুর্বেদিক ভেষজ হিসাবে পরিচিত?
এটি আয়ুর্বেদে একটি বিরল ভারতীয় ভেষজ হিসাবে বিবেচিত হয়। এটি অনেক ধরনের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। মুসলি শুধু আয়ুর্বেদ নয়, ইউনানি, হোমিওপ্যাথি এবং চীনা ওষুধেও ব্যবহৃত হয়।
মুসলির বোটানিক্যাল নাম ক্লোরোফাইটাম বোরিভিলিয়ানাম। এটি শতাবরী পরিবারের অন্তর্গত। আয়ুর্বেদে দুই ধরনের মুসলি বর্ণিত হয়েছে। শ্বেত মুসলি ও কালো মুসলি। এই দুটিই রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
ফাইবার এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ মুসলি প্রাতঃরাশের জন্যও একটি ভাল বিকল্প। জেনে নিন শ্বেত মুসলি খাওয়ার উপকারিতা-
ওজন বাড়াতে সহায়ক:
শ্বেত মুসলিতে রয়েছে অনেক ধরনের স্বাস্থ্যকর পুষ্টি উপাদান যা শরীরের জন্য উপকারী । এর থেকে অনেক ধরনের ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায়। এটি কম ওজনের লোকদের পুষ্টি দেয়। এটি খেলে ওজন বাড়ানো যায়। আপনি যদি ওজন বাড়াতে এবং পেশীর ভর বাড়াতে চান, তাহলে প্রতিদিন ঘুমানোর আগে দুধের সাথে এক চামচ শ্বেত মুসলির গুঁড়ো খেতে পারেন।
উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক:
শ্বেত মুসলিতে অ্যাডাপ্টোজেন বা অ্যান্টি-স্ট্রেস বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বিভিন্ন মানসিক রোগ বা বিষণ্নতা, ডিমেনশিয়া ইত্যাদি সমস্যা দূর করতে এটি খুবই উপকারী। এটি শরীরের বাত এবং পিত্ত দোষ নিরাময়েও সহায়ক। দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা, হাত-পা ঠান্ডার মতো সমস্যায়ও এটি উপকারী।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক:
শ্বেত মুসলি খেলে যে কোষগুলো ইনসুলিন উৎপাদনে সাহায্য করে সেগুলো খুবই সক্রিয় হয়ে ওঠে। এটি গ্লুকোজে স্টার্চের ভাঙ্গন কমাতেও সাহায্য করে, যার ফলে শরীরে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে উপকারী:
মুসলির শক্তিশালী ফর্মুলেশন স্ট্যামিনা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী: শ্বেত মুসলি হার্টকে মেরামত করে এবং হজমশক্তি বাড়াতেও সহায়ক। যা আর্থ্রাইটিস সহ অনেক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
তবে মনে রাখবেন যে আপনার বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ না করে কিছু খাবেন না।
No comments:
Post a Comment