প্রস্রাবের রঙ অনেক রোগের লক্ষণ বলে দিতে পারে। তবে এই কারণে কিছু লোক প্রায়শই চিন্তিত থাকে। মায়োক্লিনিক ওয়েবসাইটের মতে, প্রতিবার প্রস্রাবের রং পরিবর্তন হলেই যে রোগের লক্ষণ তা নয়।
অনেক ধরনের খাবার থেকে প্রাপ্ত পিগমেন্ট এবং রাসায়নিক পদার্থও প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তনের জন্য দায়ী। বীটরুট, বেরি, মটরশুঁটি ইত্যাদির মতো অনেক জিনিস রয়েছে যেগুলি খেলে প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন করতে পারে।
এমন কিছু ওষুধও আছে, যেগুলো ব্যবহার করলে প্রস্রাবের রং হলুদ, লাল বা সবুজাভ নীল হতে পারে, কিন্তু প্রস্রাবের রঙে অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে তা কোনও না কোনও রোগের লক্ষণ হতে পারে।
লিভার, কিডনি এবং ডায়াবেটিসের মতো রোগ শনাক্ত করতে প্রস্রাব পরীক্ষা করা হয়। এর পাশাপাশি মূত্রনালীর সমস্যাও এর মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়।
কীভাবে বোঝা যাবে প্রস্রাবের রং স্বাভাবিক: বিটরুট, বেরি ইত্যাদি খেলে বা কিছু ওষুধ খেলে প্রস্রাবের রং সবুজ, হলুদ, নীল ইত্যাদি হতে পারে, কিন্তু যদি এগুলো না খাওয়া সত্ত্বেও প্রস্রাবের রং অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হয়। তাহলে সেক্ষেত্রে কোনও রোগের লক্ষণ হতে পারে।
সাধারণত, প্রস্রাবের রঙ পানীয় জলের উপর নির্ভর করে। তরল প্রস্রাবের হলুদ রঙকে পাতলা করে, তাই আপনি যত বেশি জল পান করবেন, প্রস্রাবের রঙ তত পরিষ্কার হবে।
কম জল পান করলে প্রস্রাবের রং হলুদের সাথে ঘন হয়ে যায়। তবে কখনো কখনো প্রস্রাবের রং স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পরিবর্তিত হতে পারে। এটি লাল, সবুজ, নীল, গাঢ় বাদামী এমনকি সাদাও হতে পারে।
কখন ডাক্তার দেখাতে হবে: মূত্রনালিতে ইনফেকশন হলে বা কিডনিতে পাথর থাকলে প্রস্রাবের রং রক্তের রঙের মতো দেখাবে। সাধারণত প্রস্রাব করার সময় ব্যথা হবে, তবে ব্যথা না থাকলে এবং প্রস্রাবের রঙ রক্তাক্ত হলে তা বিপদের লক্ষণ।
অনেক সময় মূত্রনালিতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণেও প্রস্রাবের রং নীল হয়ে যেতে পারে। এটি হাইপারক্যালসেমিয়া বা নীল ডায়াপার সিন্ড্রোমের একটি চিহ্ন হতে পারে।
প্রস্রাবের রং যদি গাঢ় বা কমলা হয়ে যায়, তাহলে তা অনেক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
অনেক সময় প্রস্রাবের রং গাঢ় বাদামী বা কালো হতে পারে। এটি তামা বা ফেনল বিষের কারণে হতে পারে।
এটি মেলানোমার প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে। খাবারের কারণে যদি প্রস্রাবের রং না পরিবর্তিত হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
No comments:
Post a Comment