কৃষকদের প্রতিবাদের পরে, কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার সংসদে পাস করা তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করার ঘোষণা করেছে। এখন দিল্লী-এনসিআর-সহ সারা দেশের মানুষের চোখ প্রতিবাদী কৃষকদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। এদিকে শনিবার আন্দোলনরত কৃষকরা বৈঠক করে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দিল্লীর গাজীপুর সীমান্তে ধর্নায় বসা বিকেউ নেতা রাকেশ টিকাইত বলেন, 'সাত শতাধিক কৃষকের শহীদ হওয়ার মধ্য দিয়ে কৃষক আন্দোলন এই অবস্থান পেয়েছে। এটা কৃষক ভুলবে না, সরকারও ভুলবে না।'
টিকাইত বলেন, 'এমএসপিও একটা বড় প্রশ্ন, এটা নিয়েও একটা আইন করা উচিৎ। কৃষক যে ফসল বিক্রি করে, তা কম দামে বিক্রি করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। এখন কথা হবে, এখান থেকে কিভাবে যাব। অনেক আইন এখন ঘরে আছে, সেগুলো আবার বাস্তবায়ন হবে।'
পাঞ্জাবের কৃষক নেতা গুরনাম সিং চাদুনি বলেন, 'এখান থেকে যাওয়ার সময় আসেনি। এমএসপি, মৃত কৃষকদের নির্ভরশীলদের ক্ষতিপূরণ এবং নথিভুক্ত মামলা খারিজ না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখানে থাকব। এ বিষয়ে রবিবার সম্মিলিত কিষাণ মোর্চার সভা অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।'
২৯ নভেম্বর সংসদে ট্রাক্টর মিছিল
একইসঙ্গে ইউনাইটেড কিষাণ মোর্চার মুখপাত্র দর্শন পাল সিং বলেন, 'দিল্লী সীমান্ত থেকে কৃষকদের আন্দোলন শেষ হবে না। যেসব কর্মসূচি আমাদের আগে থেকেই ঠিক ছিল, এখন নির্ধারিত তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। আমরা ২২ নভেম্বর লখনউতে কৃষকদের একটি বড় সমাবেশ করব। যেখানে আগামী ২৬ নভেম্বর কৃষক আন্দোলনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে সারাদেশে সমাবেশ করা হবে। একই সঙ্গে ২৯ নভেম্বর সংসদ পর্যন্ত ট্রাক্টর পদযাত্রা বের করা হবে।'
দর্শন পাল সিং বলেন, 'কৃষি আইন প্রত্যাহার ছাড়াও আমাদের আরও কিছু দাবী রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এমএসপির লিখিত গ্যারান্টি, কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার, পাওয়ার বিল ২০২০ এবং এয়ার কোয়ালিটি অর্ডিন্যান্স প্রত্যাহার এবং মৃত কৃষকদের জন্য একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জন্য জমির দাবী। এই সমস্ত বিষয়ে সরকার ইতিবাচক মনোভাব গ্রহণ করবে বলে আশা করছে যুক্ত কিষাণ মোর্চা। এই সব দাবী পূরণ না হলে দিল্লী (কিষাণ আন্দোলন) সীমান্ত খালি করার প্রশ্নই ওঠে না।'
No comments:
Post a Comment