বাংলাদেশে হিন্দু সহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ক্রমবর্ধমান ঘটনার পিছনে অন্যতম কারণ হল এই দেশের ধর্মভিত্তিক কাঠামো। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর তা ছিল ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। কিন্তু তার পরে ইসলামকে একটি রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হয় এবং সংখ্যালঘুদের সাইড করে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ তার সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে আবার ফেরত আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বস্তুত স্বাধীন বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রস্তাবিত সংবিধানে একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশের অন্তর্গত ছিল। কিন্তু ১৯৮৮ সালে সংবিধান সংশোধন করে বাংলাদেশে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম বানানো হয়। এরপর থেকে বাংলাদেশে উগ্র ইসলামী দলগুলো আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে।
সূত্র অনুযায়ী বলা যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এখন ইসলামী চরমপন্থীদের সাথে সরাসরি যুদ্ধে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধান পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী মুরাদ হাসান বলেছেন "এ বিষয়ে দেশের সংসদে একটি সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করা হবে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, কোন বিরোধিতা ছাড়াই বিলটি পাস হবে। তিনি বলেন, এটা হওয়ার পর ইসলাম আর বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম থাকবে না।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালেও একবার একথা ঘোষণা করা হয়েছিল, কিন্তু আজ পর্যন্ত এটি পরিবর্তন করা হয়নি। সংবিধানের ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমে ধর্ম নিরপেক্ষতা ভিত্তিটি ১৯৭৭ সালে মুছে দেয় জিয়ায়ুর রহমান এবং ১৯৮৮ সালে জেনারেল হুসেইন মুহাম্মাদ এরশাদ (এইচ এম এরশাদ) ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করে।
No comments:
Post a Comment