লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প নিয়ে মমতার বিশেষ ঘোষণা - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 14 July 2021

লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প নিয়ে মমতার বিশেষ ঘোষণা



প্রেসকার্ড নিউজ ডেস্ক : রাজ্য সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কর্মসূচি রূপায়ণে দ্রুত এগোতে চলেছে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের তথ্য ভাণ্ডার সামনে রেখেই। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপাতত দেড় কোটি পরিবারের কর্ত্রীর হাতে আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দিতে চান। তবে ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না যারা বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা বা বার্ধক্যভাতা পাচ্ছেন। এই প্রকল্পের সুযোগ মিলবে না যে কোনও ধরনের সরকারি চাকরি করলেও।




সাধারণ পরিবারের মহিলাদের মাসে পাঁচশো টাকা এবং তফসিলি জাতি, উপজাতি পরিবারের মহিলাদের মাসে এক হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছে সরকার এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে। ইতিমধ্যে দশ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দও হয়েছে বাজেটে এজন্য। পরিবারের কর্ত্রী নির্বাচনে রাজ্য সরকার স্বাস্থ্যসাথীর তথ্য ভাণ্ডারকেই ব্যবহার করতে চাইছে দ্রুত প্রকল্প রূপায়ণের লক্ষ্যে। কারণ বাড়ির প্রবীণ মহিলা বা কর্ত্রীর নামেই হয়েছে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ডও। পঞ্চায়েত বা পুরসভা নয়, সরাসরি সমাজকল্যাণ, নারী ও শিশুবিকাশ দপ্তরকে তৈরি করতে বলা হয়েছে নতুন প্রকল্পে সুবিধা-প্রাপকের তালিকা। এ নিয়ে সুপারিশ নিতে নারাজ রাজ্য প্রশাসন পুরসভা, পঞ্চায়েত-সহ কোনও স্তরের জনপ্রতিনিধির।




সরকারি হিসেব বলছে, দু'কোটি মহিলা বা বাড়ির প্রধানের নামে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত স্বাস্থ্যসাথী কার্ড হয়েছে। প্রতি বছরই অবশ্য 'দুয়ারে সরকার' হবে এবং যাঁদের নেই তাঁরা নতুন করে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড করাতে পারবেন মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মতো। স্বাস্থ্যসাথীর বর্তমান তালিকায় রয়েছেন তবে সরকারি বা বেসরকারি কাজ বা ব্যবসা করেন, এমন মহিলাও। এ ছাড়াও রাজ্যে এই মুহূর্তে বিধবাভাতা পান ৬ লক্ষ ৮০ হাজার ৫৬৪ জন। ১৬ লক্ষ ৮৯ হাজার ৬৫৭ বার্ধক্য ভাতার প্রাপকের সংখ্যা। ৪ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষ প্রতিবন্ধী বা মানবিক ভাতা পান। মাসে এক হাজার টাকা এই ভাতাগুলির পরিমাণ। বার্ধক্যভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা প্রাপকদের একাংশই মহিলা। এর পর আর অতিরিক্ত ভাতা পাওয়ার সুযোগ নেই সরকারি সামাজিক প্রকল্প থেকে। এই মহিলারা তাই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য মনোনীত হবেন না স্বাস্থ্যসাথী কার্ড পেলেও।




তাই দেড় কোটি ধরেই রূপায়ণের উদ্যোগ চলছে নতুন প্রকল্পের সুবিধা প্রাপকের সংখ্যা। মুখ্যমন্ত্রী ফেলে রাখতে চান না এ ধরনের সামাজিক প্রকল্প। বিশেষ করে মানুষের হাতে টাকার টানাটানি কোভিড পরিস্থিতিতে। অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদরা বহু বার বলেছেন অর্থনীতিকে বাঁচাতে গরিব মানুষের হাতে নগদ টাকা তুলে দেওয়ার কথা, যাতে বাজারেে একটা চাহিদা তৈরি করা সম্ভব হয়। এতে লকডাউনে চাঙ্গা করা সম্ভব মুখ থুবড়ে পড়া অর্থনীতিকে। সারা দেশে গড় জিডিপি ঋণাত্মক বা নেগেটিভ হলেও বিবিধ সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের কল্যাণেই পশ্চিমবঙ্গে তা পজিটিভ।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad