মঙ্গলবার, নয়াদিল্লিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বাড়িতে গিয়ে বৈঠক করলেন নির্বাচনী কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর। এই বৈঠক ঘিরে দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে জল্পনা । মোদী বিরোধী ব্রিগেডের রাজনৈতিক অংশ হতে চলেছেন কি প্রশান্ত কিশোর?
ছত্তিশগড়, রাজস্থান এবং পাঞ্জাবে কংগ্রেসের মধ্যে কোন্দল পারস্পরিক বিভেদ এতটাই মাথা চাড়া দিয়েছে যে শীর্ষ নেতারা যা শান্ত করতে ব্যর্থ । এতকিছুর মাঝেও রাহুল গান্ধীর সাথে প্রশান্ত কিশোরের এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন দেশের জাতীয় রাজনীতির বিশ্লেষকরা ।
আগামী বছর উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব এবং উত্তরাখণ্ড সহ পাঁচটি রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাঞ্জাবের বর্তমান সরকার কংগ্রেসের। যেখানে বাকি চার রাজ্যে কংগ্রেস নিজের জায়গা করার চেষ্টা করবে। পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতায় ফিরে আসার ক্ষেত্রে প্রশান্ত কিশোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এই সাফল্য দেখার পরই কংগ্রেস নিজেদের জমি শক্ত করতে পিকের দ্বারস্থ কি?
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, প্রশান্ত কিশোরের আই-প্যাক প্রচার দলটি পাঞ্জাবে মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিংয়ের সাথে কাজ করছেন ।সেক্ষেত্রে প্রশান্ত কিশোরের সাথে রাহুল গান্ধীর এই বৈঠকটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ পরের বছর পাঞ্জাবের পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের হয়ে পিকে কাজ করলেও যোগীর কাছে হারতে হয়েছে।
সোমবার প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ইউপির কংগ্রেস নেতাদের সাথেও সাক্ষাত করেছিলেন। তবে পরের বছর দেশের পাঁচটি রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রশান্ত কিশোরের পুনরায় সক্রিয়তা বড় ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রশান্ত কিশোর তার আইপ্যাক দল নিয়ে নির্বাচনী কৌশল নিয়ে খুব নিবিড়ভাবে কাজ করেন। ২০১৪ সালে প্রশান্ত কিশোর নিজের হাতে নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচনী প্রচারের কমান্ড নিয়েছিলেন এবং পুরো বিশ্ব দেখেছিল যে ওই নির্বাচনে কী ঘটেছিল। এরপরে সে আর ফিরে তাকাতে হয়নি পিকেকে। পিকে একজন সফল কৌশলবিদ হিসাবে দেশের রাজনীতিতে কর্পোরেট সংস্থা হিসাবে স্বীকৃতি পায়। পরে তিনি বিহার নির্বাচনে নীতীশ কুমার, পাঞ্জাবের অমরিন্দর সিং, অন্ধ্র প্রদেশের জগন মোহন রেড্ডি এবং পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে কাজ করে সফল হন।
কংগ্রেস ঘরোয়া মতবিরোধে জড়িয়ে যাওয়ার ফলে পাঞ্জাব কংগ্রেসে রাজনৈতিক অশান্তি দীর্ঘদিন ধরে চলছে এবং আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী দলও নীরব কারণ তাদের কিছু করার দরকার নেই। তাদের সমস্ত কাজ কংগ্রেস নেতারা নিজেদের মধ্যে লড়াই করে করে দিচ্ছেন । কংগ্রেস নেতা নবজোট সিং সিধু মঙ্গলবার টুইট করে বলেন, যে আপনি সবসময় তাঁর দৃষ্টি ও কাজকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। সিধু এবং সিএম ক্যাপ্টেন আমিন্দারকে মেলানোর অনেক চেষ্টা হয়েছিল। তবে বিষয়টি এখনও মীমাংসিত হয়নি। একই সঙ্গে, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী গেহলট এবং শচীন পাইলটের শিবিরের একই রকম বিতর্ক চলছে।

No comments:
Post a Comment