দিলীপের বার্তা শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি আর মমতা অভিষেকের বাছাইয়ে বিপাকে বহু দল বদলুরা - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 13 June 2021

দিলীপের বার্তা শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি আর মমতা অভিষেকের বাছাইয়ে বিপাকে বহু দল বদলুরা


প্রেসকার্ড নিউজ ডেস্ক:মুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে বেরিয়ে যেতেই বার্তা দিলেন দিলীপ ঘোষ, হুংকার দিলেন শুভেন্দু অধিকারীও। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "বিরোধী দলে থেকে কি করে দল ত্যাগ আইন করতে হয় তা আমি জানি, আর সেটা করা হবে। তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং বিধানসভাকে আইন মেনে চলতে হবে। তা আমি করেই ছাড়বো।" 


শুভেন্দু অধিকারীর এই হুঁশিয়ারির পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে দিলীপ ঘোষের বার্তা, "দলত্যাগ করা এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বিজেপি সেই লোকদের উপর নির্ভর করে, যারা রক্ত দিয়ে ঘাম ঝরিয়ে দলকে দাঁড় করিয়েছে। বিজেপিতে থাকতে হলে ত্যাগ তপস্যা করে থাকতে হবে। যারা শুধু ক্ষমতা ভোগ করতে চান, তারা বিজেপিতে থাকতে পারবেন না। আমরাই রাখবো না।" 


তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছিল যে তৃণমূল হয়ত শাসন ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। শাসন ক্ষমতায় আসতে পারে বিজেপি। আর সেই লোভে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে  অনেকেই এসেছিলেন। দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য থেকে তা পরিষ্কার। এমনকি বহু সমালোচনাকারী বলছেন যে, সুবিধা নিতে তারা বিজেপিতে গিয়েছিলেন।  যারা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন, তারা ভেবেছিলেন তৃণমূল ক্ষমতায় আর ফিরতে পারবে না। এমনকি শাসক দলের একাধিক নেতা-মন্ত্রী এমন মন্তব্য করেছেন অনেক আগেই। যারা ভাবছে যে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছে। তারা ভুল করছে। তারা ভুল করে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গেছে । তাদের একদিন এর মাশুল দিতে হবে। বিধানসভা নির্বাচনের পর দেখা গেল শাসক তৃণমূলের যে দাবী সেই দাবি বাস্তবে পরিণত হয়েছে। আর  রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, সোনালী গুহর মত নেতা-নেত্রীরা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিল শ্বাসকষ্টের অভাবে। তারা আবার সেই শ্বাসকষ্ট ফেরাতে তৃণমূলের ফিরতে চাইছেন। 


যে সমস্ত নেতা নেত্রীরা বলেছিল দম বন্ধ হয়ে আসছে তৃণমূলে তাই বিজেপিতে যোগ দিয়েছি আসলে এই মন্তব্যের আড়ালে ছিল  তৃণমূল জিততে না পারার ভয়। আর শাসনের স্বাদ পেতে শাসক দলে থেকে সেই স্বাদ সুবিধা নিতে তারা তখন বিজেপিতে এসছিলো। আজকের এই দলবদল সেই কথাই কিন্তু পরিষ্কার করে দিচ্ছে মাত্র চার মাসের মধ্যে যেভাবে দলবদলের হিড়িক দেখা গেছে তা নজিরবিহীন। 


পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ইতিপূর্বে কংগ্রেস ছেড়ে অনেকে বাম দলে যোগ দিয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১১ সালে পরিবর্তনের পর বাম-কংগ্রেস এমনকি বিজেপি ছেড়ে বহু নেতা-নেত্রী তৃণমূলে যোগ দিয়েছিল।  পরবর্তীতে যখন বিজেপির উত্থান হয় ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে, দেখা যায় মুকুল রায় থেকে শুরু করে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত নেতা বিভিন্ন সময় এসেছে। কিন্তু মার্চ-এপ্রিলে ভোট চলাকালীন সময়ে এবং তার আগে থেকে বেশ কয়েকজন নেতা যার ভিতরে আছে জিতেন্দ্র তিওয়ারির মত হেভিওয়েটদের নাম। তারা তৃণমূলে এসেছেন এবং দেখা যায় যে সোনালী গুহ, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়রা  মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়ে তারা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এসেছিলেন ।  আর তৃণমূলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন সেই নেতা-নেত্রীরা এখন আবার উল্টো সুরে গাইছেন।  বিজেপিতে থেকে কাজ করা যাচ্ছে না তাই তৃণমূলের থেকে কাজ করতে চাই। যেভাবে বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে তা মেনে নেওয়া যায় না। 


মাত্র ছয় মাসের মধ্যে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় সোনালীরা এভাবে দলবদল করতে চাইছে। সেই ভাবে দলবদলের জন্য দরজা খুলে রাখতে নারাজ খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও সমস্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারা দলে ঢুকবে আর কারা দলে ঢুকতে পারবে না সেই তালিকা মুকুল রায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে আলোচনা করবেন তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে বহু নেতা-নেত্রী বিশেষ করে যারা মুকুল অনুগামী তারা আছেন অধীর অপেক্ষায়। এখন দেখার এই সমস্ত নেতা-নেত্রীদের ভাগ্যে তৃণমূল বিজেপি।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad