নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বাংলায় প্রচলিত প্রবাদ অনুযায়ী, কু সন্তান হয়, তবে কু-মাতা বা কু-পিতা হয় না। তবে এই প্রচলিত কথার ব্যাতিক্রমী ঘটনা দেখা গেল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়। নিজের কন্যা সন্তাকেই বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল বাবার বিরুদ্ধে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানার অন্তর্গত চণ্ডী গ্রামে আলতাব মোল্লা ১৬-১৭ বছর ধরে এখানে ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। আলতাব মোল্লার প্রকৃত বাড়ি উস্থি থানার অন্তর্গত বাণেশ্বর পুরে। ১৬ বছর আগে বিবাহ করে উস্থি থানার অন্তর্গত শেরপুর আমড়াতলা রমজানা বিবির সঙ্গে সংসার চলতে থাকে বেশ কিছু বছর সুখে শান্তিতে। তাদের ২ ছেলে ও এক মেয়ে হয়। কিন্তু হঠাৎ করে তাদের সংসারে চরম অশান্তি নেমে আসে। আলতাব মোল্লা দর্জির কাজ বন্ধ করে মদ্যপান শুরু করে এবং স্ত্রীকে মারধর করে টাকা আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। অবশেষে তাঁর স্ত্রী লোকের বাড়িতে কাজ করে টাকা রোজগার করে আনলেও তাতে মন ভেজে না আলতাবের। অত্যাচারের মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে চণ্ডী গ্রাম ছেড়ে পৈলানে ঘড় ভাড়ায় চলে যায় রমজানা বিবি। কিন্তু ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার কথা বললের আলতাবের নিয়ে হাতে জোটে মার।
এরপর যতবারই সন্তানদের নিজের কাছে নিয়ে যেতে চান রমজানা, ততবারই হিংসার শিকার হতে হয় তাঁকে বলে অভিযোগ। তাদের বড় ছেলে প্রতিবাদ করায় তাঁকেও মেরে ফেলার চেষ্টা করে আলতাব বলে অভিযোগ। প্রতিবেশীদের চেষ্টায় প্রাণ বাঁচিয়ে বড় ছেলে চলে যায় তার মায়ের কাছে পৈলানে। আরেক ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে আলতাব সেখানেই থাকতেন। কিন্তু রোজগার না থাকায় বাড়ি ভাড়া ও মদের টাকা জোগাড় করতে পারছিল না সে। সেইকারনেই নিজের ৫ বছর বয়সী মেয়ে আনিসা মোল্লাকে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয় সে বলে অভিযোগ তাঁর স্ত্রী রমজানার। এই নিয়ে রমজানা বিবি বিষ্ণুপুর থানার দ্বারস্থ হয়।

No comments:
Post a Comment