মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে না । বিষয়টি মেনে নিতে পেরে আত্মঘাতী কোচবিহার জেলার দিনহাটা গোপালনগর হাই স্কুলের কৃতি ছাত্রী বর্ণালী বর্মন। এমনটাই দাবি মৃতার পরিবারের।
মাধ্যমিক পরীক্ষা বাতিল হয়ে যাওয়ার মর্মান্তিক পরিণতি। হতাশাগ্রস্ত শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল তারই শোওয়ার ঘর থেকে। ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহার জেলার দিনহাটায়। দিনহাটার আটিয়াবাড়ি আম্বালি বাজারের বাসিন্দা ওই কিশোরী। নাম বর্ণালী বর্মন। বয়স ১৬ বছর।
আত্মঘাতী ওই ছাত্রীর বাবা সারদা বর্মন। কাকা প্রসেনজিৎ বর্মন দিনহাটার বেসরকারি ব্যাঙ্কে কর্মরত। বাড়ি দিনহাটা আমবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ছোট আটিয়াবাড়ী এলাকায়। গতকাল রাতে আত্মহত্যা করে বর্ণালী। পরিবারের দাবি, মাধ্যমিকে ১ থেক ১০-এর মধ্যে স্থান পাবে বলে বাবা মাকে কথা দিয়েছিল বর্ণালী। এই পরিস্থিতিতে মাধ্যমিক পরীক্ষা বাতিল হওয়া মেনে নিতে না পেরেই তাঁদের মেয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি পরিবারের। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দিনহাটা থানার পুলিশ।
জানা গিয়েছে, দিনহাটা গোপালনগর এমএসএস উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমিকের ছাত্রী ছিল বর্ণালী। দিনরাত পড়াশোনায় ডুবে থাকত এবং পরীক্ষায় ভাল ফল করে, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বাবার পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিল সে। কিন্তু সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করায় বর্ণালী হতাশ এবং অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং একপ্রকার চুপচাপ হয়ে পড়ে বলেই পরিবারের দাবী।
জানা যায়, রাতে খাওয়ার সময় পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করেও বর্ণালীর সাড়া পায়নি। এরপরই তাঁরা দরজা ভেঙে বর্ণালীর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। পরিবারের দাবী, দেহের পাশ থেকে একটি নোট উদ্ধার হয়েছে। সেখানে লাল কালিতে লেখা ছিল, ”তোমার সব কাজের দায়িত্ব নিতে পারলাম না বাবা।” ইতিমধ্যেই দিনহাটা থানার পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিইয়েছে। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে।
No comments:
Post a Comment