প্রেসকার্ড নিউজ ডেস্ক : বেশি পরিমাণে অ্যালকোহল গ্রহণের ফলে লিভারের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে তবে ব্যায়াম না করা, ক্ষুধার্ত হওয়া, অতিরিক্ত খাবার খাওয়া বা অনিয়মিত খাবার খাওয়া হলেও লিভারের ক্ষতি হয়। এই অভ্যাসগুলির কারণে লিভারে ফ্যাট জমা হয়, যার কারণে লিভারের গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে।
ভোপালের হামিদিয়ার রেডিওডায়োসোনোসিস বিভাগে পরিচালিত একটি সমীক্ষায় জানা গেছে যে প্রতিদিন পরীক্ষা করা প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষের ফ্যাটি লিভারের অভিযোগ রয়েছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক কী কী বদ অভ্যাস যা আপনাকে ফ্যাটি লিভারের শিকারে পরিণত করতে পারে এবং এটি এড়াতে কী কী সমাধান রয়েছে তা জেনে নিন :
এখন ফ্যাটি লিভারের কারণে লিভারের ক্ষতি এবং লিভার ক্যান্সারের ঘটনা ঘটছে। স্থূলত্বও ফ্যাটি লিভারের সবচেয়ে বড় কারণ। গবেষণা থেকে জানা গিয়েছিল যে ডায়াবেটিস রোগীর লিভারে ফ্যাট জমা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই তাদের আরও বেশি সচেতন হওয়া দরকার।
ফ্যাটি লিভার থাকার প্রধান কারণগুলি নিম্নরূপ। দীর্ঘ সময় ধরে খালি পেটে থাকা, অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় জিনিস খাওয়া বা অনুশীলন না করা এবং অনিয়মিত খাবার খাওয়ার অভ্যাস ফ্যাটি লিভার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে। ভারসাম্যহীন জীবনযাত্রার অভাবে ফ্যাটি লিভারের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
চর্বিযুক্ত লিভার এড়াতে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ। দিনে একবার বা দু'বারের পরিবর্তে আপনার ৩-৪ বার সামান্য খাবার খাওয়া উচিৎ। এছাড়াও উপবাস করবেন না বা দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধার্ত থাকবেন না। এগুলি ছাড়াও প্রতিদিন ৪০ মিনিটের জন্য অনুশীলন করুন। স্থূলত্ব ফ্যাটি লিভারের একটি প্রধান কারণ, তাই স্থূলত্ব এড়ান। পেটে মেদ জমতে দেবেন না।
এই পরীক্ষাগুলি ফ্যাটি লিভার দেখায় :
- লিভার ফাংশন টেস্ট (এলএফটি)
- পেটের সোনোগ্রাফি
- লিভারের ফাইব্রোস্কান
সোনোগ্রাফির মাধ্যমে ফ্যাটযুক্ত লিভার সহজেই শনাক্ত করা যায়। হামিদিয়া হাসপাতালে সোনোগ্রাফি করা রোগীদের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দেখা গেছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ গ্রেড-২ এর। এক-দুই শতাংশ গ্রেড -৩ এও পাওয়া যায়, যা সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায় হিসাবে বিবেচিত হয়।
শুধু ভারতেই নয়, ফ্যাটি লিভারের রোগটি সারা বিশ্বে বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ফ্যাটি লিভার থাকে। এ কারণে অনেকের লিভারের অবনতি ঘটছে। লিভার ক্ষতিগ্রস্থ লোকেদের মধ্যে এক-দুই শতাংশ লোকও লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকিতেও থাকে। তাই ওষুধের চেয়ে প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

No comments:
Post a Comment