নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর দিনাজপুর: করোনা আবহে এবার বসেনি কোথাও দুর্গা পূজার মেলা। তার সাথে বসবে না এবার উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া থানার শতাব্দী প্রাচীন অষ্টমী দুর্গা পূজার জহড়া মেলা। মেলা কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে এবারে এই মেলা ১৩৩ বছরে পা দিয়েছে। দুর্ভাগ্য, করোনার কারনে শতাব্দী প্রাচীন এই মেলা এবার হচ্ছে না, যা ইতিহাস হয়ে থাকবে। অর্থাৎ মেলার ১৩৩ তম এই বর্ষটি।
উল্লেখ্য,প্রতি বছর শারদীয়া দুর্গা পূজার দশমীর আট দিন পর চোপড়ার মাঝিয়ালি অঞ্চলের সবুজ চা বাগান ঘেরা নন্দ কিশোর গছ গ্রামে জহড়া মেলা বসে। দশমীর পর দিন থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে চিত্রা হার, নাগর দোলা, ম্যাজিক শো, সার্কাস সহ বিভিন্ন রকমারি দোকান তাদের পসরা নিয়ে আসেন। মেলায় ভিন রাজ্য থেকেও লোক আসেন। এই মেলার বৈশিষ্ট ভিন্ন ধরনের। কারন, এখানে শারদীয়া দুর্গা পূজার মতো চার দিন পূজা হয় না। পুরনো রীতি অনুসারে এখানে দশমীর আটদিন পর এক দিনেই সব পূজা সম্পন্ন হয়। প্রতিমার গঠন শৈলীও ভিন্ন ধরনের। সিংহ বাহনে মা দুর্গা এখানে গণেশ কার্তিক ,লক্ষ্মী, সরস্বতীর সঙ্গে পূজিতা হন না। তার সাথে মোট ২৮ টি দেব দেবীর মূর্তি থাকে এখানে।
স্থানীয় বাসিন্দা, তথা মন্দির কমিটির সদস্য আসেস্বর পাল জানান, অতীতে এখানে জহড়া পাল নামের এক ধনী ব্যক্তি ছিলেন, তিনিই আজ থেকে ১৩৩ বছর পূর্বে অষ্টমী দুর্গা পূজা করেন এবং মেলা বসান। তাই তার নাম অনুসারে মেলার নাম হয় জহড়া মেলা। মেলা কমিটির সম্পাদক অজয় পাল এবং ধনলাল পাল ও জয়দেব সিংহ জানান, এই মেলা প্রতি বছর পঞ্চায়েত সমিতি থেকে ডাক হতো। তিন দিন ব্যাপী চলতো এই মেলা। কিন্তু, করোনা আবহের কারনে এবার প্রশাসন থেকে অনুমতি না পাওয়ায় মেলা বসবে না। তবে পূজা যথারীতি হবে। এছাড়াও শুধু দু-চারটি মিষ্টি, জিলিপির দোকান বসবে। অজয় বাবু জানান, ১৩৩ বছরের ইতিহাসে এবারে প্রথম মেলা হচ্ছে না, যা খুবই দুঃখ জনক। তবে করোনা থেকে বাঁচতে তারা সরকারি আইন মেনে মেলা বন্ধ করেছেন।

No comments:
Post a Comment