নিজস্ব সংবাদদাতা, উওর ২৪ পরগনা: গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু, আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে আটক স্বামী এবং শাশুড়ি। ধৃতরা হলেন স্বামী রাজু মন্ডল এবং শাশুড়ি আলেয়া বিবি। ঘটনাটি ঘটেছে গোবরডাঙ্গা থানার তেতুল তলা এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর দশেক আগে বসিরহাট থানার কাটিয়াহাট এলাকার মেহতাব মন্ডলের মেয়ে তাজমিরা বিবির(৩০) সাথে বিয়ে হয় রাজু মন্ডল(৩৩)- এর। অভিযোগ, বিয়ের বছর খানেক পর থেকেই রাজু তার স্ত্রীর উপরে মানসিক এবং শারীরিক ভাবে বিভিন্ন কারণে অত্যাচার করেন এমনকি তাজমিরার শাশুড়িও তাজমিরা উপর অত্যাচার শুরু করেন। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, মাঝেমধ্যেই টাকার জন্য চাপ দেওয়া হতো তাজমিরার উপর। মেয়ের সুখের জন্য তার বাবা মেহেতাব মন্ডল পেশায় দিনমজুর হলেও ধারদেনা করেও মাঝেমধ্যেই টাকা দিতেন জামাইকে। প্রায়শই জামাই মদ্যপান করে এসে মেয়েকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ। সপ্তাহ দুয়েক আগেও টাকার জন্য তাজমিরাকে মারধর করে বাড়ী থেকে বের করে দেয় ।পরবর্তীতে তাজমিরা নয় বছরের ছেলেকে শ্বশুর বাড়ীতে রাখলেও চার বছরের ছেলেকে নিয়ে তার বাপের বাড়ীতে চলে যান এবং চার দিন আগে হঠাৎ জামাই রাজু মন্ডল লোন তোলার নাম করে তাজমিরাকে তার বাড়ীতে নিয়ে আসেন এবং মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় একটি সমিতি থেকে তাজমিরা নামের ৩০ হাজার টাকা লোন তোলা হয় বলে অভিযোগ।
মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রতিবেশীদের মারফত তাজমিরার বাপের বাড়ীতে হঠাৎ ফোনে খবর দেওয়া হয় তাজমিরা ঘরের মধ্যে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে তাজমিরা বাবা এবং আত্মীয়রা ছুটে এসে দেখেন তত সময় পুলিশ দেহ উদ্ধার করে হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে আসেন কিন্তু চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। তবে তাজমিরার পরিবারের পক্ষ থেকে গোবরডাঙা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযোগের ভিত্তিতে গোবরডাঙা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলা রুজু করে স্বামী রাজু মন্ডল এবং শাশুড়ি আলেয়া বিবিকে আটক করেছে গোবরডাঙ্গা থানার পুলিশ। বুধবার দুপুরে বারাসত হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে তাজমিরার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গোবরডাঙ্গা থানার পুলিশ।

No comments:
Post a Comment