স্মরনে মহানায়ক! ৯৪ তম জন্ম দিবসে ফিরে দেখা স্মৃতিতে অমলিন উত্তম - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 3 September 2020

স্মরনে মহানায়ক! ৯৪ তম জন্ম দিবসে ফিরে দেখা স্মৃতিতে অমলিন উত্তম


নিজস্ব প্রতিবেদন: দুর্দান্ত অভিনয় দিয়ে কোটি কোটি বাঙালির মন জয় করেছিলেন তিনি। রূপালি পর্দা ভেদ করে তিনি হয়ে উঠেছিলেন রুচিবান-মার্জিত বাঙালির আদর্শ পুরুষ। তিনি আর কেউ নন, তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তম কুমার, আমাদের সকলের প্রিয় অভিনেতা। আজ সেই মহানায়কের ৯৪তম জন্মবার্ষিকী। ১৯২৬ সালের আজকের এই দিনে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন উত্তম কুমার। এ দেশে জন্ম গ্রহণ করলেও ওপার বাংলাতেও তার জনপ্রিয়তা কিছু কম ছিল না। অনবদ্য অভিনয়ের জন্য উত্তম কুমারকে বাংলা সিনেমার "মহানায়ক" উপাধি দেওয়া হয়। বলা হয়, একজন পুরুষ সিনেমাতে যত ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে পারেন, তার কোনটিই তিনি বাদ দেননি। বড় পর্দা ছাড়াও তিনি মঞ্চেও একজন সফল অভিনেতা হিসেবে কাজ করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি চিত্রপরিচালক এবং প্রযোজক হিসেবেও কাজ করেন। 

উত্তম কুমারের প্রকৃত নাম অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়। 'মায়াডোর' নামক একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও 'দৃষ্টিকোণ' তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা। তবে 'বসু পরিবার' সিনেমা দিয়ে প্রথম তিনি সবার নজর কাড়েন। কিন্তু টলমান আসনটি পাকাপোক্ত করেন 'সাড়ে চুয়াত্তর'-এর মধ্য দিয়ে। উত্তম কুমার নিজেকে পৌরুষদীপ্ত সু -অভিনেতা হিসেবে প্রমাণ করেন 'এ্যান্টনি ফিরিঙ্গি' সিনেমাতে স্বভাবসুলভ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। তাঁর সেই ভুবন ভোলানো হাসি, প্রেমিকসুলভ আচার-আচরণ বা ব্যবহারের বাইরেও যে থাকতে পারে অভিনয় এবং অভিনয়ের নানা ধরণ, মূলত সেটাই তিনি দেখিয়ে দিয়েছিলেন এই সিনেমাতে।

বাংলা চলচিত্রের পাশাপাশি মহানায়ক বেশ কিছু হিন্দি সিনেমাতেও কাজ করেছেন। তার অভিনীত হিন্দি চলচ্চিত্রের মধ্যে ছোটিসি মুলাকাত, অমানুষ, আনন্দ আশ্রম প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। অস্কার বিজয়ী পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় নায়ক ও চিড়িয়াখানা সিনেমাতেও কাজ করেন উত্তম কুমার।১৯৫৩ সালে মুক্তি পাওয়া সাড়ে চুয়াত্তর দিয়ে বাংলা সিনেমার দর্শকেরা পায় সবথেকে সফল ও জনপ্রিয় জুটি "উত্তম-সুচিত্রা"। উত্তম-সুচিত্রা জুটি একসময় এতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে উত্তম ও সুচিত্রার নাম একসাথে উচ্চারিত হতে থাকে। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে তারা অনেকগুলো ব্যবসা সফল ও জনপ্রিয় সিনেমা দর্শকদের উপহার দেন। হারানো সুর, পথে হল দেরী, সপ্তপদী, চাওয়া পাওয়া, বিপাশা, জীবন তৃষ্ণা আর সাগরিকা-এর মতো কালজয়ী সব সিনেমার পরিচিত ও আকাঙ্খিত মুখ উত্তম-সুচিত্রা। এছাড়াও উত্তম কুমার ভ্রান্তি বিলাস, ওগো বধূ সুন্দরী,-র মতো চলচিত্রও উপহার দিয়েছেন তিনি। ওগো বধূ সুন্দরী সিনেমায় মদের গ্লাস হাতে তাঁর সেই এই তো জীবন গানের অভিনয় আজও সমান ভাবে জনপ্রিয়।

তবে উত্তম কুমারের জীবনের শুরুটা মোটেও মসৃণ ছিলনা।  সংসারের হাল ধরতে শিক্ষাজীবন শেষ না করেই কলকাতা পোর্টে কেরানির চাকরি শুরু করেন তিনি। পরে অভিনয়ের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে কাজ করেন মঞ্চে।  সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসে চলচ্চিত্র জগতে প্রতিষ্ঠা পেতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে তাকে।  

উল্লেখ্য,  ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই এই মহানায়ক না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। মাত্র ৫৩ বছর বয়সে হার্ট অ্যাঁটাকে মৃত্যু হয় তাঁর। তবে আজও তিনি আমাদের সকলের মনে গেঁথে আছেন।


No comments:

Post a Comment

Post Top Ad