নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা: মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভার ১৫নং মন্ডলের অধীন ভালুকা মশালদহে সাংসদ খগেন মুর্মু ও জেলা সাধারণ সম্পাদক প্রতাপ সিং মহাশয়ের উপস্থিতিতে এলাকার সক্রিয় তৃণমূল কর্মী ও সমাজসেবী মতিউর রহমানের নেতৃত্বে এক হাজারেরও বেশি মানুষ ভারতীয় জনতা পার্টি পরিবারে যোগদান করলেন। বিজেপির দাবী, এদের প্রায় সকলেই তৃণমূলের কর্মী ছিলেন, তৃণমূলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে যোগ দিলেন বিজেপিতে।
সামনেই একুশের বিধানসভা ভোট আর সেই ভোটকে পাখির চোখ করে ময়দানে নেমে পড়েছে বিজেপি, লক্ষ্য বাংলা জয়, বিজেপি যে সর্বশক্তি নিয়ে আগামী ভোটে লড়বে তা বিজেপি নেতাদের কথাতেই স্পষ্ট। আর ভোট জেতার জন্য নিজেদের সংগঠন মজবুত করতে মরিয়া তারা কিছুদিন আগেই সদস্য সংগ্রহ অভিযানের অঙ্গ হিসেবে, ' আমার পরিবার, বিজেপি পরিবার 'নামে একটি কর্মসূচি শুরু করে বিজেপি। সেই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে আজ মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর এ বিজেপিতে যোগ দিলেন প্রায় ১২৫০ জন। উপস্থিত ছিলেন উত্তর মালদহের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং মালদা জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক প্রতাপ সিংহ। মতিউর রহমান , বদরুজ্জোম্মান এবং শেখ আলমগীরের নেতৃত্বে হাজারেরও বেশি মানুষ বিজেপিতে যোগ দিলেন আজ। বিজেপি সূত্রের দাবী, সকলেই তৃণমূলের সাথে যুক্ত ছিলেন কিন্তু শাসক দলের নেতাদের অত্যাচার, গুন্ডামি, তোলাবাজির ফলে সকলে অতিষ্ঠ, পঞ্চায়েত স্তরে তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতিও ছাপ ফেলেছে মানুষের মনে, তাই সঠিক পথের দিশা পেতে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করলেন সকলেই।
এই প্রসঙ্গে উত্তর মালদহের বিজেপি সাংসদ খগেনে মুর্মু বলেন, " মতিউর রহমানের নেতৃত্বে ১০০০ জন, বদরুজ্জামানের নেতৃত্বে ৫০ জন এবং শেখ আলমগীরের নেতৃত্বে ২০০ জন আজ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। শাসক দলের প্রতি মানুষ বীতশ্রদ্ধ, এই মুহূর্তে তাই সকলের ভরসা বিজেপি, ফলে রাজ্যজুড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঢল নেমেছে। হরিশ্চন্দ্রপুরের মশালদহ বাজারেও সেই কারণেই আজ এত মানুষ বিজেপি পরিবারের সাথে যুক্ত হলেন।" এছাড়াও আজ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে শাসক দল এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকে আক্রমণ করেছেন খগেন বাবু। বেকারত্ব থেকে পরিযায়ী সমস্যা নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে সাংসদ বলেন, " রাজ্যে কর্মসংস্থানের যোগান দিতে মমতা ব্যর্থ। রাজ্যের কত মানুষ পরিযায়ী হয়েছেন এখানে কাজ না পেয়ে তা এই করোনা পরিস্থিতিতে সকলে দেখেছে। আর কেন্দ্র সরকার যখন শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন চালু করল তখন সেটাকে করোনা এক্সপ্রেস বলে পরিযায়ী শ্রমিকদের অপমান করলেন মুখ্যমন্ত্রী । "
পঞ্চায়েতে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পকে ঘিরে তৃণমূল দুর্নীতি করছে বলে অভিযোগ করেন খগেন মুর্মু, সাথেই তিনি আশাবাদী এবং আত্মবিশ্বাসী আগামী বিধানসভায় বিজেপি আসবে ক্ষমতায়।
কেন বিজেপিতে যোগ দিলেন ? এই প্রশ্নের উত্তরে মতিউর বলেন , "আমি পদে না থাকলেও সক্রিয় ভাবে তৃণমূল করতাম, কিন্তু ওই দলে কোন শৃঙ্খলা নেই, দলের মধ্যে প্রচন্ড দুর্নীতি, নেতাদের গুন্ডামি বেড়েই চলেছে, আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই, তাই সকলকে নিয়ে বিজেপিতে এলাম, এরা সকলেই ক্ষুব্ধ তৃণমূলের প্রতি। "
তবে তৃণমূল কর্মীদের বিজেপিতে যোগদানের কথা অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেত্রী তথা জেলা পরিষদ সদস্যা মর্জিনা খাতুন। তিনি বলেন, " রাজ্য জুড়ে নেত্রীর উন্নয়নে অনুপ্রাণিত হয়ে তৃণমূলে যোগদানের হিড়িক চলছে, তাই খগেন বাবু হতাশাগ্রস্ত হয়ে মিথ্যে প্রচার করছেন, তৃণমূলের একজনও বিজেপিতে যোগ দেন নি।" এছাড়া একুশের ভোটে তৃণমূলের জয় নিয়েও তিনি আশাবাদী।

No comments:
Post a Comment