খুব কম লোমশ প্রাণীই জলের নিচে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারে। এক্ষেত্রে ভোঁদড় সবচেয়ে সফল প্রাণীগুলোর একটি। মৎস্য শিকারের অসাধারণ দক্ষতা জলজ পরিবেশে এদের টিকে থাকার মূল অস্ত্র। পৃথিবীর প্রায় সবকটি মহাদেশের নদীতে এরা এখনও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
পৃথিবীর বেশিরভাগ ভোঁদড় একাকী জীবনযাপন করে কিন্তু এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার নদীগুলোত ভোঁদড়দের বড় পরিবার দেখতে পাওয়া যায়। এদের একটি পরিবারে ১৭ জন পর্যন্ত সদস্য থাকতে পারে। এরা প্রায়ই নদীর ধারে শরীর ঘষতে ব্যস্ত থাকে। এটি একদিকে যেমন এদের চামড়া পরিষ্কার রাখে, তেমন অন্যদিকে পারিবারিক বন্ধনও সুদৃঢ় করে। এছাড়া দলবদ্ধভাবে মাছ ধরার সুবিধা অনেক বেশি। ৪ মাস বয়স থেকে বাচ্চাদের মাছ ধরার প্রশিক্ষণ শুরু হয় এদের মধ্যে। তবে মাছ ধরার ক্ষিপ্রতা এবং গতি শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্কদেরই রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্করা মাছ ধরে শিশুদের সাথে ভাগাভাগি করে নেয়।
কিন্তু এসব নদীতে বড় শিকারি প্রাণীরাও বাস করে। লম্বায় প্রায় ১৩ ফুটের এসব কুমিরেরা সহজেই একটি ভোঁদড়কে কাবু করতে পারে। তবে এই ভোঁদড়েরা এতই আত্মবিশ্বাসী যে, উল্টে কুমিরকেই উত্যক্ত করতে থাকে। কোনও কুমির ভুল করে এদের এলাকায় ঢুকে পড়লে কুমিরকেই বিপদের মুখে পড়তে হয়। ভোঁদড় আকারে ছোট হলেও এদের ক্ষিপ্র গতি ও সংখ্যা, এদের শক্তি জোগায়। আর এই অদম্য শক্তির কাছে কুমিরকে হার মানতেই হয়। অনেক সময় আবার কুমিরের মৃত্যু হতেও দেখা যায়। একাকী একটি ভোঁদড় প্রাপ্তবয়স্ক কুমিরের কাছে নস্যি। কিন্তু সম্মিলিত শক্তি মহাশক্তিকেও সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করতে সক্ষম। মানব সভ্যতার ইতিহাসে মানুষের সম্মিলিত শক্তি অনেক অসাধ্য সাধন করেছে। একতার কাছে পরাক্রমশালীও হার মানতে বাধ্য।



No comments:
Post a Comment