৯ ই অক্টোবর,২০১২ পাকিস্তানের মিঙ্গরা শহরে পরীক্ষা শেষে একদল কিশোরী বাসে বাড়ী ফিরছিল। সে সময় মিঙ্গরা ছিল, তালেবান অধ্যুষিত। পথে ছাত্রীদের বাসের গতিরোধ করল ২ তালেবান জঙ্গী। জঙ্গিরা ১৫ বছরের এক কিশোরীর মাথায় নির্মমভাবে তিনটি গুলি ছোড়ে।
কিশোরীর অপরাধ নারী শিক্ষার স্বপক্ষে সোচ্চার হওয়া। মালালা ইউসুফজাই! এই কন্যার জন্ম ১২ ই জুলাই,১৯৯৭ সালে। মালালার পিতা জিয়াউদ্দিন ইউসুফজাই এবং মাতা তোর পেকাই ইউসুফযাই। তার পিতা ওই এলাকার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি নিজেও নারী শিক্ষার সম্পর্কে এক বলিষ্ঠ কন্ঠ।
শিশুকাল থেকেই শিক্ষার প্রতি মালালার ছিল অকৃত্রিম আকর্ষণ।২০০৭ সালে মিঙ্গরা তালেবানদের দখলে চলে আসে। জঙ্গি গোষ্ঠী ওই অঞ্চলে নারী শিক্ষা নিষিদ্ধ করে এবং মিঙ্গরা সহ বৃহত্তর সোয়াত ভ্যালির ৪০০ স্কুল ধ্বংস করে। কিন্তু শিশু মালালা হাল ছেড়ে দেয়নি। ২০০৯ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে বিবিসি উর্দু ব্লগে লেখা শুরু করেন।
তিনি তালেবানদের অধীনে তার এবং পরিবারের দুর্দশা তুলে ধরে। সেই সাথে স্কুলে যাওয়ার অভিপ্রায় প্রকাশ করেন। এক টিভি সাক্ষাৎকারে বলেছেন , "কোন সাহসে তালেবানরা আমার শিক্ষার অধিকার হরণ করেছে?" ফলে মালালা তালেবানদের চক্ষুশূল হয়ে ওঠে।
২০১২ সালে মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর পেশোয়ারের মিলিটারি হসপিটালে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বেশকিছু অস্ত্রোপচারের পর তাকে হসপিটাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। শিক্ষার অধিকার নিয়ে তার সাহসিকতা আর ত্যাগ পৃথিবীর ইতিহাসে অনন্য। অসাধারণ এই বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৪ সালে তিনি যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। ওই সময় তার বয়স ছিল ১৭ এবং নোবেল বিজয়ীদের মধ্যে তিনি সর্ব কনিষ্ঠ।
মালালা বর্তমান পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে নারী শিক্ষা প্রসারে অসামান্য অবদান রেখেছে। শিক্ষা অধিকারের এই অগ্নিকন্যা সম্প্রতি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি শিশুর শিক্ষিত হওয়ার অভিপ্রায়, আজ পৃথিবীর সেরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রস্ফুটিত।
একটি শিশু একজন শিক্ষক, একটি পেন, একটি বই, বদলে দিতে পারে পুরো বিশ্বকে।।
রিয়া মণ্ডল...

No comments:
Post a Comment