দুঃসাহসিক স্কুল যাত্রা - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, 6 July 2020

দুঃসাহসিক স্কুল যাত্রা



বলিভিয়ার ইয়াঙ্গাস ভ্যালি, ভৌগলিক অবস্থানের দিক থেকে জায়গাটি অনন্য। এখানে আমাজন বন অ্যান্ডিস পর্বতের সাথে মিলিত হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার দরিদ্র দেশটির  প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষাগ্রহণ খুবই কঠিন বিষয়। কিন্তু, এই জঙ্গলে বেড়ে ওঠা শিশুদের জন্য শিক্ষাই আধুনিক পৃথিবীতে পদার্পণের একমাত্র অবলম্বন। এখানকার শিশুরা স্কুলের যাত্রাপথে চরম ঝুঁকির মোকাবিলা করে।




 এলমারদের বাসস্থান এই উপত্যকার এক পাহাড়ী ঢালে। এলমারের বয়স ৭ বছর, তার ছোট ভাই মরফির বয়স ৪ বছর। স্কুলে পৌঁছানোর জন্য তাদের একমাত্র রাস্তা লোহার তার। যা প্রায় ৩০ বছরের পুরানো। তার নিচে রয়েছে ৬৫০ ফুট গভীর গর্ত। শিশুদের জীবন জং ধরা তারের শক্তির উপর নির্ভর করে। তার গুলো লম্বায় ১০০০ ফুট। ক্ষিদে, ভয় এবং ক্লান্তি এখানকার শিশুদের নিত্য দিনের সঙ্গী। সকাল সাড়ে ৬টায় এলমারদের দিন শুরু হয়। স্কুলে যাওয়ার আগে এলমার তার বাবার কাজে সাহায্য করে‌। সকাল ৭টায় এলমার তারের ওপর দিয়ে পার হওয়ার জন্য তৈরি হয়। চার বছর বয়সী মরফি তার বাবার কোলে বসে পার হতে পারলেও, এলমারকে পার হতে হবে প্লাস্টিকের দড়িতে ঝুলে। এ অঞ্চলের অনেক মানুষ এভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। অনেক সময় ঝড়ো হাওয়া বয়, তারগুলো চরম ভাবে দুলতে থাকে। তারে বজ্রপাত হলে তারে থাকা ব্যক্তি বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে সহজেই মৃত্যুবরণ করতে পারে। এলমারের প্রতিটি মিনিট এখানে ঝুঁকিপূর্ণ। বাবা অগ্রভাগে থাকেন যেকোন বিপদে সাহায্য করার জন্য। 



এলমারের ছোট ভাই যথারীতি বাবার কোলে বসে পার হল। এখান থেকে তাদের আরও এক মাইল পথ হেঁটে যেতে হবে। বিকেলে স্কুল ছুটি হলে এই পথের আবারো পুনরাবৃত্তি হয়। প্রতিটি শিশুর স্কুল যাত্রার গল্প স্বতন্ত্র। কিন্তু, কিছু গল্প সংগ্রামের, ক্ষুধা আর দারিদ্রতা থেকে মুক্তির প্রাণান্তর চেষ্টার।

 শিপ্রা হালদার

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad