জীবনের প্রথম পাঠ শিশুরা তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে তাদের বাড়ীতে শিখে থাকে। তারা যে পরিবেশে বাস করে সেগুলি তাদের প্রভাবিত করতে বাধ্য। অনেক সময় বাচ্চারা নিজের বাড়ীতে এমন কিছু শিখতে শুরু করে, যা তাদের চালনার বয়সে গভীর প্রভাব ফেলে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতপার্থক্য যখন ঝগড়া আকারে শুরু হয়, তখন শিশুদের কোমল মনে এটির সরাসরি প্রভাব পড়ে।তাদের আচরণেও প্রভাব পড়ে। তাদের ভিতরে একটি বিদ্রোহী প্রকৃতির বিকাশ শুরু হয়। বাবা-মায়ের ঝগড়া বাচ্চাদের বিভিন্ন ভাবে প্রভাবিত করতে পারে। যেমন-
অনেক সময় পারস্পরিক কলহের জেরে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের উপর রাগ করতে শুরু করেন। এটি শিশুদের নির্দোষ মনে গভীর প্রভাব ফেলে এবং তারা তাদের পরিবার থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করে। এমনকি কখনও কখনও এও ঘটে যে, তাদের পরিবার থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং তারা নিজস্বতা সন্ধান করতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে তারা কখনও কখনও ভুল পথে চালিত হয়।
বাচ্চারা সুখী পরিবেশে আরও বেশি শিখতে এবং আরও অধ্যয়ন করতে সক্ষম। শিশুরা বাড়ীর চাপের পরিবেশে মানসিকভাবে অসন্তুষ্ট হয় এবং এমন পরিস্থিতিতে তারা পড়াশোনায় মন দিতে পারে না এবং অন্যদের থেকে পিছিয়ে পরে।
অল্প বয়স থেকেই বাবা-মায়ের মধ্যে লড়াই হতে দেখলে, বয়সের সাথে তাদের বিভিন্ন ধরণের মানসিক অসুস্থতা ঘিরে ধরে। তাদের উদ্বেগ, হতাশার মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
বাচ্চারা তাদের বাবা-মা যা করে তা অল্প বয়স থেকেই তারা রপ্ত করে ফেলে। বাবা-মায়ের আচরণের প্রভাব তাদের উপর পড়ে এবং তারা নিজেরাই তাদের মতো চলতে থাকে। তাদের প্রকৃতি ঝগড়াটে হতে শুরু করে এবং তারা কাউকে সম্মান দেয় না। খারাপ কথা বলা, মুখে-মুখে উত্তর দেওয়া, বড়দের অমান্য করা এবং ঝগড়া করা অভ্যাসে পরিণত হয়। শিশুরা অল্প বয়সে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।
যে শিশুরা শৈশব থেকেই তিক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা যায়। তাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি কাজ এবং তারা এ থেকে বের হতে পারে না। তারা তাদের ভবিষ্যত নিয়েও বিভ্রান্তির মধ্যে থেকে যায়।

No comments:
Post a Comment