টাকা নয় ছয় করতে দুষ্টু ফন্দি এঁটে পুলিশের জালে যুবক - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 4 June 2020

টাকা নয় ছয় করতে দুষ্টু ফন্দি এঁটে পুলিশের জালে যুবক




নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: রান্নার গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় মা ছেলের হাতে দিয়েছিল গ্যাস সিলিন্ডার আনার টাকা। গুণধর ছেলে তারপরে কি করেছে জানলে চমকে উঠবেন। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের নিউ জলপাইগুড়ি থানার অন্তর্গত শান্তি পাড়ার ঘটনা।

শান্তি পাড়ার এক মহিলা আয়ার কাজ করেন, তার ছেলে অভিজিৎ মন্ডল। তিন দিন আগে ওই মহিলা তার সন্তানকে ৬০০ টাকা গ্যাস সিলিন্ডার আনার জন্য দেন। গুণধর ছেলের সেই সময় হয়তো অর্থের প্রয়োজন ছিল, তাই সেই অর্থ সে খরচ করে ফেলে কোন খাতে। এরপর বাড়ীতে গ্যাস সিলিন্ডার কি করে আনবেন তা নিয়ে পড়ে যান চিন্তায়। উপায় বের করতেই দুষ্টুবুদ্ধি। স্থানীয় অলোক মহাম্মদ নামে এক ব্যক্তির বাড়ীতে অভিজিৎ রাতের অন্ধকারে গ্যাস সিলিন্ডার চুরি করে। চুরি করতে গিয়ে পাশেই রাখা ছিল একটি টেবিল ফ্যান, তাও হাতিয়ে নেয়। এরপর চুরি করে নিয়ে আসা ভরা গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে দেয় মায়ের হাতে। এবার তার কাছে থাকা মায়ের দেওয়া খালি সিলিন্ডার বিক্রি করে দেয় স্থানীয় কৌশিক সূত্রধর নামে এক ব্যক্তির কাছে। ব্যাস সবকিছু ঠিকঠাক। আর চুরি করে নিয়ে আসা ফ্যান দিয়ে গরম থেকেও মিলছিল স্বস্তি। কিন্তু সবকিছু চুরমার হয়ে গেল, যার বাড়ী থেকে গ্যাস সিলিন্ডার এবং ফ্যান চুরি হয়েছিল সেই ব্যক্তির করা অভিযোগের কারণে।

শান্তি পাড়া এলাকার বাসিন্দা অলোক মহাম্মদ তার বাড়ীর গ্যাস সিলিন্ডার এবং ফ্যান চুরির বিষয়ে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের নিউ জলপাইগুড়ি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে নিউ জলপাইগুড়ি থানা সাদা পোশাকের পুলিশ বাহিনী। নিজেদের সূত্রকে কাজে লাগিয়ে নিউ জলপাইগুড়ি থানা সাদা পোশাকের পুলিশ বাহিনী জানতে পারে স্থানীয় এক যুবক কৌশিক সূত্রধর দুদিন আগে একটি গ্যাস সিলিন্ডার কিনেছে। এরপর পুলিশ হানা দেয় কৌশিক সূত্রধরের বাড়ীতে। কৌশিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে উদ্ধার হয় অভিজিতের মায়ের দেওয়া সেই খালি সিলিন্ডার। এরপর কৌশিককে সাথে নিয়ে অভিজিতকে পাকড়াও করে পুলিশ। উদ্ধার হয় অলোক মহাম্মদের বাড়ী থেকে চুরি যাওয়া ভরা গ্যাস সিলেন্ডার এবং ফ্যান। এরপর অভিজিতের মায়ের কাছ থেকে পুরো গল্প শুনে হতভম্ব শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের নিউ জলপাইগুড়ি থানার তদন্তকারী অফিসারেরা।

কাঁদতে কাঁদতে অভিজিৎ মন্ডলের মা নিউ জলপাইগুড়ি থানার অফিসারদের জানান, 'ছেলেকে গ্যাস আনার জন্য ৬০০ টাকা দিয়েছিলাম। ভাবতে পারিনি ছেলে এই কাণ্ড করেছে'। গোটা ঘটনায় লজ্জিত মা। অভিযুক্ত অভিজিৎ মন্ডল পুলিশকে জানিয়েছে,তার অর্থের প্রয়োজন ছিল এবং সেই কারণেই এই ফন্দি এঁটেছিল সে। চুরি করা গ্যাস সিলিন্ডার কিনে বিপাকে পড়েছে কৌশিক সূত্রধর। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের নিউ জলপাইগুড়ি থানার তদন্তকারী অফিসারেরা কৌশিক সুত্রধর এবং অভিজিৎ মন্ডলকে বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি আদালতে পাঠায়। 

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad