সাংবাদিক সম্মেলনে দিলীপ ঘোষকে তুলোধোনা করলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 4 June 2020

সাংবাদিক সম্মেলনে দিলীপ ঘোষকে তুলোধোনা করলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি




নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর: "দু মাস ধরে করোনা মহামারীতে গোটা বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাও আক্রান্ত। তবে আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি বাংলা অনেক নিরাপদ জায়গা। কিন্তু এমন ভাবে প্রচার চালানো হচ্ছে যেন বাংলাকে করোনায় প্রথম সারিতে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে এবং দুর্ভাগ্য যে এই বাংলা ও বাংলা বিরোধী চক্রান্তে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সহ বিজেপির সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ জড়িত। বাদ নেই বাম-কংগ্রেস বিরোধী দলগুলো এবং দিল্লি মনোনীত মাননীয়, সম্মানিত রাজ্যপালও এই চাক্রান্ত থেকে বাদ আছে বলে আমার মনে হয় না। তাদের একটাই লক্ষ্য বাংলাকে টেনে নীচে নামানো। সমস্ত ভারতবর্ষের সামনে বাংলাকে খাটো করাই এদের উদ্দেশ্য। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ একদিকে করোনা, একদিকে আম্ফা‌নের ধ্বংসাত্মক লীলা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে দুটিকে সামাল দিচ্ছেন তার জন্য"। বুধবার এভাবেই জেলা তৃণমূল কার্যালয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসার পাশাপাশি বিজেপির মেদিনীপুরের সাংসদ ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও গেরুয়া শিবির সম্পর্কে ক্ষোভ উগড়ে  পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি অজিত মাইতি।

তিনি দিলীপ ঘোষের প্রতি অভিযোগের সুর চড়িয়ে বলেন, "উনি যেখানের সাংসদ সেখানকার মানুষ করোনা পরিস্থিতির কারণে লকডাউনে কি অবস্থায় রয়েছেন ,পরিযায়ী শ্রমিকরা কি অবস্থায় রয়েছেন , আম্ফা‌নের ঝড়ে ওনার সাংসদ এলাকার এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে , কত বাড়ী ভেঙে গেছে। ঝড়ে গাছ পড়ে কোথায় কোথায় বিদ্যুৎ খুঁটি উপড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল উনি সেসবের কোনও খোঁজখবর রাখেননি। শুধু মাত্র বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর কুৎসা আর সমালোচনা করে বেড়াচ্ছেন। জেলার ক্ষেত্রেও বিজেপি নেতা কর্মীরা মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। কোয়ারেন্টিন সেন্টার করতে বাধা দিচ্ছেন । ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছেন। কেউ ত্রিপল পেলে রাতের অন্ধকারে সেখানে তান্ডব চালাচ্ছে। তৃণমূল নেতা কর্মীদের মারধর করা হচ্ছে"।

অজিত বাবু আরও বলেন, তাঁরা সমস্ত ঘটনা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং রাজ্য যুব সভাপতি অভিষেক ব্যানার্জি কে জানিয়েছেন। লক ডাউনের প্রথম দিন থেকে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এই জেলার তৃণমূল নেতা-কর্মী, বিধায়করা ১৫০০ ক্যুইন্টাল চাল, ১০০০ ক্যুইন্টাল আলু , ১৫০ ক্যুইন্টাল ডাল অসহায় মানুষের হাতে তুলে দিয়েছেন । প্রতিদিন জেলা জুড়ে ২০০০ মানুষকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে, যা এখনও চলছে। ৮১৫০ টি পিপিই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের দেওয়া হয়েছে। শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ী ফিরতে যাতে কোনও সমস্যা  না হয় এজন্য রাতদিন স্টেশনে রয়েছেন তৃণমূল কর্মীরা ।

অজিত বাবুর প্রশ্ন, ঘাটালের সাংসদ দেব ওরফে দীপক অধিকারী দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ছুটে আসতে পারেন, মেদিনীপুরের বিজেপি সাংসদ এলাকার মানুষের কাছে আসতে পারেন না? উনি শুধু বাংলা আর বাঙালিকে অপদস্থ করতে পারেন। এসবই তাঁরা মানুষের সামনে তুলে ধরবেন। 

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad