মশলা, শাক-সবজির স্বাদ বাড়ানোর সময় আমরা প্রায় তেজপাতা ব্যবহার করে থাকি । অন্যদিকে, তেজপাতা ঔষধিগুনেও সমৃদ্ধ। তেজপাতার ঔষধি গুণাগুণ আয়ুর্বেদে উল্লেখ আছে।
তেজপাতা তেজপাট্ট নামেও পরিচিত, যদিও এর বোটানিকাল নাম সিন্নোমাম তমালা। তেজপাতা ছাড়াও এই গাছের অন্যান্য সমস্ত অংশে ঔষধি গুণ রয়েছে বলে জানা যায়।
আসুন আমরা এই পাতার ঔষধি গুরুত্ব উল্লেখ করি এবং জানি যে কীভাবে বিভিন্ন ভেষজ প্রতিকারে তেজপাতা ব্যবহার করে।
তেজপাতার পাতায় অ্যান্টিবায়োটিক বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। শুকনো পাতার গুঁড়া তৈরি করুন এবং ২ গ্রাম জল সহ পান করুন, প্রতি রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে। এতে পেটের কৃমি মারা যায় এবং মল নরম হয়ে বেরিয়ে আসে। মানে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে তেজপাতা সহায়ক।
এই পাতার গুঁড়া প্রস্রাব সংক্রান্ত সমস্যাগুলিতেও সহায়তা করে। যদি দিনে ২ বার খাওয়ার পরে ২ গ্রাম গুঁড়া সেবন করা হয়, তবে প্রস্রাব সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরণের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
তেজাপাতার ছালের পাউডার হৃৎপিণ্ডের সুস্বাস্থ্যের জন্য ভাল বলে বিবেচিত হয়। গুজরাটের আদিবাসীদের মতে, প্রতিদিনের খাবারে যদি স্বল্প পরিমাণে তেজপাতার ছাল মশলা হিসাবে ব্যবহার করা হয়, তবে এটি হার্টের রোগীদের জন্য স্বাস্থ্য বৃদ্ধিকারী।
যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তাদেরও প্রতিদিনের ডায়েটের একটি অবিচ্ছেদ্য খাবার হিসেবে রাখা উচিৎ।
তেজপাতা গাছের ছালের পাউডার (২ গ্রাম)জলে ডুবিয়ে আধা ঘন্টা রাখা যেতে পারে এবং পরে সেবন করলে ডায়াবেটিস রোগীদের পক্ষে ভাল। নিয়মিত দু'বার করে খাওয়ার ফলে শরীরে খুব শীঘ্রই চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।
তেজপাতা গাছের ছাল এবং পাতা সমান পরিমাণে মিশিয়ে গুঁড়ো করে একটানা ১৫ দিন খেলে লিভার সম্পর্কিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
তেজপাতার গুঁড়া মধুর সাথে খেলে সর্দি-কাশিতে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। তবে যাদের মুখে ফোস্কা রয়েছে, তাদের এটি ব্যবহার করা উচিৎ নয়।
গোটা জিরা দিয়ে এক চামচ তেজপাতা গুঁড়ো গ্যাসের সমস্যা বা পেটের ব্যথায় বা বাড়তি অ্যাসিডিটিতে চিবিয়ে খেলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। পেট সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যার জন্য এই মিশ্রণটি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

No comments:
Post a Comment