১৯৮৯ সালে দেশে চলছিল ভিসিআরের দাপট। ঘরে ঘরে ভিসিপিতে বলিউড সিনেমা। সে বছর সাড়া ফেলে দিল বলিউডের ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ ছবিটি। এ ছবির হাত ধরে এল নব্বইয়ের রোমান্টিক ছবির যুগ, দুই নতুন মুখ, সালমান খান ও সারল্যভরা মিষ্টি মেয়ে ভাগ্যশ্রী। প্রথম ছবিতেই ভাগ্য তাঁকে সমর্থন করল। তোলপাড় উঠল গোটা ভারত, এমনকি বাংলাদেশেও।
সালমান খান এখনও বলিউডের দাপুটে তারকা। তবে সিনেমায় আর নিয়মিত হননি ভাগ্যশ্রী। অল্প কদিন ছোট পর্দায় কাজ করেছিলেন তিনি। পরে বিদায় জানান রঙিন এ দুনিয়াকে। হয়ে যান সংসারী।
পর্দায় নেই, বিনোদন জগতের তেমন কোন খবরেও নেই। তাই ভাগ্যশ্রীর খবর নিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় ঢুকি। পেয়েও যাই। সেখানে তিনি বেশ সক্রিয়, উজ্জ্বল। এই তো দুই দিন আগে মা দিবসে মায়ের সঙ্গে বেশ কিছু ছবি দিয়েছেন। গত সোমবার দুপুরে দিলেন টমেটো আর বেশি করে পেঁয়াজ দিয়ে মশুর ডাল রান্নার বিশেষ রেসিপি, ভিডিও আকারে। ছবি, ভিডিও দেখে মনে হয় ভাগ্যশ্রী যেন আজও ১৯৮৯-এর সুমনের মতোই সরল, কিশোরী! এ ছাড়া অসংখ্য ছবিতে মিলল বর্তমানের ভাগ্যশ্রীকে। মিলেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বিভিন্ন সাক্ষাৎকার। নতুন, পুরানো ছবি ও সাক্ষাৎকার স্মৃতিকাতর করছে ভক্তদের। নানা মন্তব্য সেখানে। ৫০ পেরিয়েছেন। তবে সেটি তার জন্য শুধু সংখ্যা মাত্র। নানা সময়ে দেওয়া তার ফেসবুক পেজে এবং ইনস্টাগ্রামে দেখা যায় তাঁর শরীরচর্চার ভিডিও। রান্নার ছবি, ভিডিও দিচ্ছেন।
মহারাষ্ট্রের সাঙ্গলির এক রাজপরিবারে ভাগ্যশ্রীর জন্ম। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনিই বড়। বয়স এখন ৫০ পেরিয়েছে। তবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে পাওয়া যায় এক তরুণ ভাগ্যশ্রীকে। দেখা যায় শরীরচর্চা করছেন, নয়তো হাসিমুখে রান্না। স্বামী-সন্তান নিয়ে বেশ সুখেই আছেন তিনি। ভাগ্যশ্রীর মেয়ে অবন্তিকা ও ছেলে অভিমন্যু। ছেলেটা অভিনয় করতে চায়। তারুণ্য ধরে রাখার জন্য শরীরচর্চা থেকে শুরু করে যা যা প্রয়োজন, সবই করছেন তিনি। যথেষ্ট ফ্যাশন–সচেতনও।
চলচ্চিত্র থেকে সরে যাওয়ায় কিছুটা হতাশ মনে হয় তাঁকে। এক ভিডিও বার্তায় বলেছিলেন, অভিনয়টা চালিয়ে গেলে জীবনটা হয়তো অন্য রকম হতো। একবার যখন ভেবেছিলেন ফিরবেন, তত দিনে বলিউড অনেক বদলে গেছে। বোম্বে হয়ে গেছে মুম্বাই। হতাশার ছায়া পড়েছিল সংসারেও। দেড় বছর স্বামীর কাছ থেকে আলাদা ছিলেন তিনি।
কী হয়েছিল? তিনি বলেন, ‘দোটানায় ভুগতে ভুগতে একসময় মানসিক অবসাদ জড়িয়ে ধরেছিল আমাকে। ভাবতাম, হিমালয় জীবনে না এলে কী এমন ক্ষতি হতো! লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনে দিব্যি কাটত। পরে অন্য কাউকে বিয়ে করলে এত অসফল হতাম না। সেসব মনে পড়লে আজও খারাপ লাগে।’
সালমান খানের সঙ্গে এখনও মাঝেমধ্যে যোগাযোগ হয় ভাগ্যশ্রীর। জন্মদিনে হয় শুভেচ্ছা বিনিময়। কোন অনুষ্ঠানে দেখা হলে কথা হয়। তাঁর সঙ্গে আর ছবি করা হয়নি। প্রস্তাব এলেও পর্দায় সালমানের প্রেমিকা হিসেবে দর্শক তাঁকে মানবেন না। তাই আর নায়কের বৌদি হতে চাননি ভাগ্যশ্রী।
‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ রিমেক হলে নিজের জায়গায় কাকে দেখতে চাইবেন? আলিয়া ভাটকে। ‘উড়তা পাঞ্জাব’-এ আলিয়ার অভিনয় খুব ভালো লেগেছিল তাঁর। আর সালমানের জায়গায় রণবীর সিং বা কাপুরকে। দুই রণবীরেরও প্রশংসা করেছেন তিনি।
প্রথম ছবির সাফল্যের পর বড় বড় প্রযোজক যোগাযোগ করেছিলেন তাঁর সঙ্গে। তিনি জানিয়েছিলেন, স্বামী হিমালয় দাসানিকে নায়ক করলেই ছবি করবেন। বেচারা হিমালয়ও স্ত্রীর সঙ্গে পর্দায় অন্য পুরুষকে দেখতে রাজি ছিলেন না। ফলাফল, একজন ভাগ্যশ্রী হারাল বলিউড।

No comments:
Post a Comment