কয়েকদিন আগেও দেশে করোনাভাইরাস ছড়ানোর জন্য তাবলিগ জামাতের সদস্যদের দায়ী করা হচ্ছিল। এবার সেই তাবলিগ জামাতের সদস্যরা এগিয়ে এসেছেন ভাইরাস আক্রান্তের চিকিৎসায়।
বিবিসি জানিয়েছে, দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার একটি মসজিদে তাবলিগ জামাতে যোগ দেওয়ার পর করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন- এমন কয়েকজন সুস্থ হয়ে নিজেদের রক্ত দান করতে এগিয়ে এসেছেন। সেই রক্ত থেকে প্লাজমা নিষ্কাশন করে তা দেওয়া হবে করোনা সংক্রমিত রোগীর শরীরে।
করোনা থেকে সেরে ওঠা রোগীর শরীরে যে অ্যান্টিবডি (ভাইরাস প্রতিরোধী ক্ষমতা) তৈরি হয়, সেই অ্যান্টিবডি রক্তের প্লাজমা ট্রান্সফিউশনের মাধ্যমে করোনা আক্রান্তের শরীরে ঢুকিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আউটলকু ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লিতে দু’শোর বেশি সেরে ওঠা তাবলিগ জামাত সদস্য করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় প্লাজমা দিতে চেয়েছেন। তামিলনাড়ুতে ৪৫০ জনের বেশি তাবলিগ সদস্য প্লাজমা দিতে চেয়ে নিবন্ধন করেছেন।
বিবিসি জানিয়েছে, গত রবিবার প্রাথমিকভাবে সেরে ওঠা ১০ জন তাবলিগ সদস্য প্লাজমা দিয়েছেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে প্লাজমা দান করেছেন তামিলনাডুর দিন্ডিগালের আনাস সৈয়দ। তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের ছাত্র।
আনাস বলেন, করোনাভাইরাস ছড়ানোর জন্য তাবলীগ সদস্যদের যে বদনাম করা হচ্ছিল, এখন প্লাজমা দান করার মাধ্যমে আল্লাহ সেই বদনাম দূর করে দিলেন।
করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেশের নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়ার জন্য তাবলিগ জামাতের সদস্যদের ওপর দায় চাপানো হচ্ছিল অনেক মূল ধারার সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
সেই ধারণা ছড়িয়ে পড়ার পেছনে ইসলাম বিদ্বেষও কাজ করেছিল বলে মনে করেন আনেকে। কারণ যারা তাবলিগ সদস্যদের দোষ দিচ্ছিলেন তাদের অনেকেই হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির সমর্থক।
ফেসবুকে খুবই সক্রিয় এক বিজেপি নেতা দীপ্তিমান সেনগুপ্ত বিবিসিকে বলেন, তাবলিগ সদস্যরা যেভাবে প্লাজমা দান করছেন, তা ইতিবাচক।
করোনা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের প্লাজমা সংক্রমিতের দেহে প্রবেশ করিয়ে দিল্লিতে সাফল্য পাওয়া গেছে। তারপর মুম্বাইতেও শুরু হয়েছে প্লাজমা নেওয়া। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল প্লাজমা চিকিৎসার সাফল্য তুলে ধরেছেন।
এই চিকিৎসা এখনও পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিক্যাল রিসার্চ প্লাজমা চিকিৎসা নিয়ে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি।

No comments:
Post a Comment