নিজস্ব সংবাদদাতা,৬ মার্চ: এটাই হয়তো বর্তমান যুগের বসন্ত উৎসব। ঐতিহ্য মন্ডিত রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বসন্ত উৎসবে মেয়েদের খোলা পিঠে অশ্লীল শব্দ। ছেলেদের বুকে লেখা অশ্লীল শব্দ। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে ইতিমধ্যে সেই ছবি ছড়িয়ে পড়েছে।
রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিটি রোড ক্যাম্পাসে বৃহস্পতিবার দোল উৎসবের কিছু ছবি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েেছ সেই ছবি, যা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল হইচই। ছবিগুলিতে দেখা গিয়েছে, শাড়ি পরা কিছু মহিলার খোলা পিঠে আবির দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান বিকৃত করে অশ্লীল শব্দ লেখা রয়েছে। অশ্লীল শব্দ লেখা রয়েছে ছেলেদের বুকেও। এ সম্পর্কে উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এই ঘটনা তাঁর ক্যাম্পাসেই ঘটেছে। তবে সেই সঙ্গে তিনি এ-ও জানিয়েছেন, দোল উৎসব উপলক্ষ্যে ক্যাম্পাসে প্রচুর বহিরাগত এসেছিলেন। তাই কারা এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন, তা চিহ্নিত করা প্রায় অসম্ভব।
আবার আরেকটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, তিনজন তরুণী পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাদের পিঠে “বসন্ত এসে গেছে” লেখা এবং ঠিক তাদের দিকেই পেছন ফিরে বসে থাকা তিনজন তরুণের বুকে আবির দিয়ে লেখা অশালীন গালিগালাজ। এই ধরনের ছবিগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগেনি। আর তা ছড়িয়ে পড়তেই তর্ক বিতর্কের বন্যা বয়ে গিয়েছে। বেশ কিছুদিন আগেই ইউটিউবার রোদ্দুর রায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “চাঁদ উঠেছিল গগনে” গানটিকে অশালীন ভাষায় গেয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। এবার সেই বিতর্কিত গানই ওই তরুণীরা তাদের পিঠে আবির দিয়ে লিখে বিতর্কে জড়ালো। এই বিষয়ে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী বলেন, “এখন নতুন নতুন প্রযুক্তিতে ছবি এবং ভিডিও ‘সুপার কম্পোজ’ করা যায়। তেমন কিছু করা হয়ে থাকতে পারে। এছাড়াও ক্যাম্পাসে বসন্ত উৎসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ছেলে-মেয়েরাও আসে। তাই ওই তরুণ-তরুনীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।”
বিষয়টি নিশ্চিত করতে আজ শুক্রবার সকালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন সহ-উপাচার্য। এরপরই পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হতে পারে। রবীন্দ্রভারতী ছাত্রসংসদ এবং চারুকলা অনুষদের যৌথ উদ্যোগে এই বসন্ত উৎসব হয়ে আসছে কয়েক বছর ধরে। কিন্তু রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে চলমান বসন্ত উৎসবে এই দৃশ্যকে কেউ মেনে নিতে পারছেন না।

No comments:
Post a Comment