ঔষধি গুণে সমৃদ্ধ নিশিন্দা পাতা - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 15 March 2020

ঔষধি গুণে সমৃদ্ধ নিশিন্দা পাতা






নিম তিতা নিশিন্দা তিতা, তিতা পানের খড় রে...’ কিরণ চন্দ্র রায়ের কণ্ঠে গানটি শুনতে বেশ ভালোই লাগে। আবার নিশিন্দার নীলচে বেগুনী ফুল দেখলে চুলে গুঁজে দেওয়ার ইচ্ছাটাও মনে জাগতে পারে কারও কারও। কিন্তু নিশিন্দা খাওয়ার কথা বললে চোখ-মুখ কুঁচকে ফেলবেন অনেকেই। তবে তিতা স্বাদে ভরা নিশিন্দার গুণের কারণে এর কদর যুগে যুগে সমাদৃত।
নিশিন্দাকে ছোট আকারের পত্রঝরা বৃক্ষ অথবা বড় আকারের গুল্মও বলা যায়। এর গড় উচ্চতা ৪ থেকে ৫ মিটার হয়। পরিবার Verbenaceae। উদ্ভিদ তাত্ত্বিক নাম Vitex negundo Linn।  অন্যান্য নাম Samalu, Chaste Tree, Nochi, Nirgundi ইত্যাদি।
আমাদের দেশের প্রায় সব জায়গাতেই নিশিন্দা চোখে পড়ে। গাছ খুবই কষ্টসহিষ্ণু এবং প্রতিকূলতার মাঝেও টিকে থাকতে পারে। রাস্তার ধার, জমির আইল, বাঁধের ধার, পতিত জমি, বন-জঙ্গল ও পাহাড়ের ঢালে নিশিন্দা গাছ জন্মাতে দেখা যায়। গাছের কাঠ ও শাখা-প্রশাখা বেশ শক্ত। বৃদ্ধি ধীর গতিসম্পন্ন। গাছের কাঠের রং ধূসর থেকে সাদা। এর কাঠ বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ কাজ ও গ্রামাঞ্চলে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়। ছাই থেকে রং তৈরি করা হয়। গাছের শাখা-প্রশাখা অধিক। যৌগিক পাতা লম্বায় ২ থেকে ৩ সেন্টিমিটার। গঠন অসমান ও বর্শাকৃতির, অগ্রভাগ সূঁচালো এবং ৩ থেকে ৫ ফলক বিশিষ্ট। রং গাঢ় সবুজ। পাতা কচলালে উগ্র গন্ধ বের হয়।
নিশিন্দার ফুল ফোটার মৌসুম বর্ষা ও শরৎকাল। এ সময়ে গাছের শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে লম্বা ঊর্ধ্বমুখী মঞ্জরিতে থোকায় থোকায় ছোট নীলাভ থেকে বেগুনি রঙের ফুল ফোটে। ফুল মঞ্জরির নিচ থেকে ফোটা শুরু হয়ে আস্তে আস্তে উপরেরগুলো ফোটে। ফুটন্ত ফুলের সৌন্দর্য নজরকাড়া। ফুল গন্ধহীন। ফুল শেষে গাছে ফল হয়। ফল আকারে ছোট ও ডিম্বাকৃতির। বীজ থেকে নিশিন্দার বংশবিস্তার করা যায়। তবে ডাল কাটিং পদ্ধতির মাধ্যমে বংশবিস্তার সহজ ও প্রচলিত। বর্তমানে নিশিন্দা চাষের প্রচলন তেমন না থাকলেও হেজ (Hedge) উদ্ভিদ হিসেবে বহুল ব্যবহার রয়েছে। নিশিন্দার পাতা, ফুল, ফল, বীজ, মূল সবই ভেষজ গুণে গুণান্বিত। গরম জলে পাতার নির্যাস ক্রনিক ব্যথা, জ্বর, বাত জ্বর, বাতব্যথা, মাথাব্যথা উপশম করে। 
এছাড়া, সব ধরনের চর্মরোগ, সর্দি, হাঁপানি, ঠান্ডাজনিত রোগে নিশিন্দা বেশ কার্যকর। কোথাও কোথাও নিশিন্দা পাতা সেদ্ধ করে ওই জল দিয়ে শিশুদের স্নান করাতে দেখা যায়। এছাড়া, নিশিন্দা গাছের শাখা-প্রশাখা ও পাতা পোকা-মাকড় দমন করে। বহুকাল ধরে কৃষিতে রয়েছে এর জৈব ব্যবহার। নিশিন্দা গাছের পাতা রোদে শুকিয়ে গুঁড়া করে বীজের সঙ্গে মিশিয়ে বীজ সংরক্ষণ করলে তাতে পোকার আক্রমণ হয় না। পাতার রস থেকে তৈরি করা জৈব কীটনাশক ব্যবহার পরিবেশসম্মত ও অর্থ সাশ্রয়ী চাষাবাদে ভূমিকা রাখে। 
নিশিন্দা গাছের পাতা, শিকড়, ফুল এবং ফল সব কিছুই উপকারী। খুঁজলে দেশের সর্বত্রই এই গাছের সন্ধান পাওয়া যাবে। তবে জেনে নেওয়া যাক নিশিন্দার নানা গুণ সম্পর্কে-
-নিশিন্দা হাঁপানি ও ঠান্ডাজনিত রোগে বিশেষ কার্যকরী। 
-নিশিন্দার পাতা পরজীবী নাশক এবং এটা যক্ষা ও ক্যান্সার প্রতিরোধক। 
-পা মচকে গেলে বা ফুলে গেলে নিশিন্দার পাতা গরম করে আক্রান্ত স্থানে রেখে কাপড় দিয়ে বেঁধে দিয়ে দিন। দেড়/দুই ঘণ্টা পর পর নতুন করে লাগান। দু-একদিনের মধ্যে আরাম পাবেন।
-শরীরে কোনও স্থানে টিউমার থাকলে নিশিন্দা পাতা বেটে গরম করে প্রতিদিন লাগান। কদিনের মধ্যে ফল পাবেন।

-রান্নাঘরে পোকার উপদ্রব হলে নিশিন্দার ডাল-পাতা রেখে দিন। পোকার আনাগোনা কমে যাবে। 
-নিশিন্দা পাতা চূর্ণ সিকি গ্রাম পরিমাণ খেলে গুঁড়া কৃমির উপদ্রব কমে যায়। তবে শিশুদের খাওয়াবেন না। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এটা প্রযোজ্য হবে।
-কানের যেকোনও ধরনের ব্যথায় নিশিন্দা মহৌষধ হিসেবে কাজ করে।
-বাতের ব্যথায় নিশিন্দা কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।  

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad