বিয়ের বিষয়টি নাকি স্বর্গে নির্ধারিত হয়। অনেকেই ভাবেন, বিধাতা এ কাজ সম্পন্নের দায়িত্ব আমাদের ওপরই দিয়েছেন।
তাই বিয়ের বিষয়টি আসলেই জাতি-ধর্ম-বর্ণ ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে মানুষ কত আয়োজনই না করে। দুজনের সুখের জীবনের জন্য কত হিসাব-নিকাশই না করতে হয়। তবে এখানে বিশেষজ্ঞরা এমনই বিশেষ ৩ ধরনের বিষয় তুলে ধরেছেন। গাঁটছড়া বাঁধার আগে এগুলো সম্পর্ক খোঁজ-খবর নেওয়া ভালো।
১. পারিবারিক ও জেনিটিক স্বাস্থ্য:
একে অপরের পরিবার নিয়ে আলোচনা করা ভালো। হবু বর-কনের পরিবার এবং তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে আলোচনা স্বাস্থ্যকর চর্চা। কারও পরিবারে বিশেষ কোনও বংশগত রোগ বা কোনও সদস্যের বিশেষ সমস্যা সম্পর্কে জানান দিতে হবে। সার্জারি, ক্রনিক সমস্যা বা জেনেটিক অবস্থা সহ অন্যান্য বড় স্বাস্থ্যগত তথ্য জানাটা জরুরি। বিয়ের আগে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাউন্সেলিং করার পেশাদার মানুষ রয়েছেন। তারা বিয়ের আগে বর ও কনের জেনেটিক ব্লাড ডিসঅর্ডার পরীক্ষা করতে বলেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে থ্যালাসেমিয়া সাধারণ সমস্যা হয়ে দেখা দেয়। এ সমস্যায় দেহে অল্প পরিমাণ লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হয়। হিমোগ্লোবিমানের মাত্রা কম থাকে। আর এ সমস্যা স্বামী-স্ত্রীর থাকলে শিশুও একই সমস্যা নিয়ে জন্ম নেয়। এ ধরনের বিভিন্ন বিষয়ে খবর নিতে হবে।
২. অর্থনৈতিক অবস্থা:
এটা বাস্তবিক বিষয়। সাধারণত বরের অর্থনৈতিক অবস্থাই বড় বিষয় মনে করা হয়। আসলে উভয়ের এবং উভয় পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা থাকতে হয়। অর্থ বিষয়ক জটিলতার কারণে বিবাহিত জীবন বিপর্যস্ত হতে পারে। আয় সম্পর্কে ধারণা, ভবিষ্যতের চিন্তা, ঋণের পরিমাণ ইত্যাদি সম্পর্ক মৌলিক ধারণা থাকতে হবে।
৩. আইনি জটিলতা:
প্রত্যেক পরিবারের নিজস্ব ঝামেলা থাকতে পারে। বিশেষ করে আইনি জটিলতা থাকলে তার সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা থাকতে হবে। যদি থাকে তবে তা কি ধরনের এবং একে সামলাতে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা দরকার। বিশেষ করে কারও পরিবারের বিরুদ্ধে অপরাধ বিষয়ক অভিযোগ রয়েছে কিনা তা জানা জরুরি। এখানে স্বচ্ছতা দরকার। নয়তো ভবিষ্যতে অনেক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হবে।

No comments:
Post a Comment