সন্তানের সুস্থতার জন্য মরিয়া হয়ে সাহায্য চেয়ে বেড়াচ্ছেন অসহায় মা - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 17 March 2020

সন্তানের সুস্থতার জন্য মরিয়া হয়ে সাহায্য চেয়ে বেড়াচ্ছেন অসহায় মা







১৫ বছরের একটা বাচ্চা ছেলের ছবি হাতে, রোজ স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে আশেপাশের দোকানে, সিগন্যালে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক অসহায় মা। হাত জোড় করে বলছেন একটু সাহায্যের জন্য, যাতে তার ছেলেটি বেঁচে যায়। কিন্তু কেউ তার কথা বিশ্বাস করছেন না। প্রতি সন্ধ্যায় একরাশ হতাশা তিনি ফিরে যাচ্ছেন সেই হাসপাতালে, যেখানে ভর্তি আছে তার ছেলে— অয়ন।

গত চার বছর ধরে অয়ন মায়লোডিসপলেসিয়া নামে এক বিরল রোগে আক্রান্ত। এটি এমন একটি রোগ, যার ফলে শরীরের অস্থি-মজ্জা যথেষ্ট পরিমাণে কার্যকরী রক্তকোষ তৈরি করতে পারে না। সঙ্গে অয়ন ফ্যানকনি অ্যানেমিয়াতেও আক্রান্ত, যেটি অস্থি-মজ্জার কার্যক্ষমতা নষ্ট করে। এই পরিস্থিতিতে অয়নের মা ঝুমা একা লড়ে যাচ্ছেন তার ছেলের প্রাণ বাঁচানোর জন্য।

কারণ, কিছুদিন আগে ঝুমার স্বামী ঝুমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন। স্ত্রী এবং সন্তানের যত্ন নিতে গিয়ে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। ঝুমা জানালেন, “আমরা অনেক দিন ধরে ওর জন্য অপেক্ষা করেছি। কিন্তু উনি ফিরে আসেননি।” সেই মুহূর্তেই মানসিক এবং আর্থিক সমস্ত রকমভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলেন ঝুমা। আর সেদিন থেকেই তিনি পণ করেছিলেন যে, ছেলের যত্নের কোনওরকম ত্রুটি করবেন না।

কোনও মতে একটা ছোট চাকরি জোগাড় করে, তিনি ছেলের চিকিৎসা শুরু করেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অয়নের স্বাস্থ্যের অবনতি হতে থাকে। অবস্থা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায়, যে ওষুধগুলি পুরোপুরি কাজ করা ব’ন্ধ করে দেয়। শরীরে প্লেটলেটের পরিমাণ হ্রাস পেতে থাকে। শরীর ফ্যাকাশে হয়ে যায়।

কাঁদতে কাঁদতে ঝুমা জানান, “কয়েক বছর আগেও আমার ছেলে ক্লাসের টপার ছিল। খেলাধুলাতেও ভাল ছিল ও। কিন্তু এখন ও প্রচণ্ড যন্ত্রণায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছে। আমি ওকে সান্ত্বনাটুকুও দিতে পারছি না।” চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অয়নের বাঁচার একমাত্র আশা একমাত্র বোন ম্যারো ট্র্যান্সপ্ল্যান্টই। তার জন্য প্রায় ১৯.৩৪ লক্ষ টাকা চাই। ঝুমার পক্ষে সম্ভবই নয় এত টাকার ব্যবস্থা করা।

ঝুমা কান্নাভেজা গলায় জানিয়েছেন, “আমার কোনও রকম সঞ্চয় নেই। বিক্রি করার মতো কোনও কিছু নেই। আমার আত্মীয়রা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। কেউ আমাকে ঋণ দেওয়ার জন্যও প্রস্তুত নয়। আমি জানি না, কীভাবে এই বড় অঙ্কের টাকা জোগাড় করব। আমার ছেলেই আমার জীবন। ওকে হারালে আমার কাছে নিজের বলে আর কিছু থাকবে না।”

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad