"২০" সাল মানেই কী বিশ্ব জুড়ে মৃত্যুর লীলা খেলা! কি বলছে শতাব্দির ইতিহাস - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 25 March 2020

"২০" সাল মানেই কী বিশ্ব জুড়ে মৃত্যুর লীলা খেলা! কি বলছে শতাব্দির ইতিহাস



"২০" সাল মানেই যেন মহামারীর ঘনঘটা। মৃত্যুর মিছিল। আর বিচ্ছেদের পাজরভাঙ্গা আর্তনাদ। ইতিহাসে পাতা উল্টালেই চোখে পড়ে গত ৩শ বছরের প্রতি শতকের ২০ সালেই ঘটে গেছে একেকটা মহামারি, বিসর্জন হয়েছে অসংখ্য মানুষের প্রাণ।

সম্প্রতি চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) - এ পর্যন্ত ১৮২টির বেশি দেশে ৪ লাখের বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ১৯ হাজার মানুষের। বিভিন্ন দেশে কোটি কোটি মানুষ কোয়ারেন্টিনে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবহন সেবা বন্ধ এবং বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কারও বাড়ীর বাইরে যাওয়ার অনুমতি নেই । কিন্তু এর পরও দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল।

প্রতি ১০০ বছর অন্তর ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে ২০২০ সালের নোভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর মিল রয়েছে। করোনাভাইরাসও কি ‘বিশে নেমে আসা মৃত্যুর বিষাক্ত বিষবাস্প’!

১৭২০ সালে প্লেগ:
মহামারী প্লেগ ভেঙে দিয়েছিল ইউরোপের সমাজিক কাঠামো। ১৭২০ সাল থেকে পরবর্তী ২ বছর গ্রেট প্লেগ অব মার্সেইতে ১ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এতে শুধুমাত্র ফ্রান্সে মার্সেই শহরে মারা যান কমপক্ষে ৫০ হাজার মানুষ। অর্ধশতাব্দি ফ্রান্সের জন্মহার কমিয়ে দিয়েছিল এই  প্লেগ।

মধ্যযুগীয় ইতিহাসের প্রতিযশা গবেষক ফিলিপ ডেইলিভার তার এক নিবন্ধে লিখেছেন, চার বছর মেয়াদি প্লেগের মড়কে ইউরোপের ৪৫-৫০ ভাগ জনসংখ্যা বিলীন হয়ে যায়, যা প্রায় ২০ কোটি।

১৮২০ সালে কলেরা:
১৮২০ সালে তা সর্বোচ্চ আকার ধারণ করা কলেরা তার বিস্তার শুরু করে  ১৮১৭ সালে। ইতিহাসের পাতায় অতি মহামারী হিসেবে ১৮২৪ সাল পর্যন্ত কলেরায় কোটি কোটি প্রাণ অকালে ঝরে পড়ে। ১৮২০ সালে ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কলেরায় আক্রান্ত এলাকার দৃশ্য ছিল একেবারেই ভিন্ন। এশিয়াটিক কলেরা নামে পরিচিত এই অতি মহামারী শুরু হয় কলকাতার ব্রিটিশ সেনাদের মধ্যে। পরে তা প্রায় অর্ধেক বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

এই মহামারীতে কত লোক মারা গিয়েছিলেন তা পরিষ্কার জানা যায়নি। তবে পরিসংখ্যান বলছে, শুধু ব্যাংককেই মারা গিয়েছিলেন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। সাড়া বিশ্বে তা কয়েক কোটিতে পৌঁছায়। দীর্ঘদিন কলেরা পৃথিবীর বুকে সদর্পে বিচরণ করে।

 ১৯২০ সালে স্প্যানিস ফ্লু:
স্প্যানিশ ফ্লু নামে নতুন ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বর প্রথম দেখা গিয়েছিল ১৯১৮ সালের ৪ মার্চ কানসাসের আমেরিকান সেনা সদস্যদের মধ্যে। পরে ঝড়ের গতিতে ছড়াতে শুরু করলো সেই জ্বর। সারা পৃথিবীকে গ্রাস করে নেয়  এই মরণব্যাধি। পরের দুই বছরে সারা পৃথিবীতে কমপক্ষে ৫ কোটি মানুষের প্রাণহানি হয়।

২০২০ সালে করোনা ভাইরাস:
গত বছ ডিসেম্বরে শুরু হওয়া এই মারণঘাতী ভাইরাস যথারীতি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বিশ্ব জুড়ে। মহামারীর তকমাও ছিনিয়ে নিয়েছে সে। এরই মধ্যে ১৯ হাজারের কাছাকাছি প্রান নিয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ পেড়িয়েছে।

তবে এই পরিসংখ্যানের ফ্যাক্ট চেক করেছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। কোভিড-১৯ রোগটি প্রতি শতকের ২০ সালে মহামারীর সঙ্গে মিল থাকার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।  স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নির্দিষ্ট ভাইরাস মৌসুমী হলেও এই দাবির কোনও ভিত্তি নেই যে প্রতি শতাব্দীতে একবার ভাইরাল মহামারী ঘটে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad