জীবনে প্রাপ্ত সুখ দুঃখের নেপথ্যে এই একটি শব্দই দায়ি - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 24 March 2020

জীবনে প্রাপ্ত সুখ দুঃখের নেপথ্যে এই একটি শব্দই দায়ি





‘মায়া’ জিনিসটা এক ধরনে ধোঁকা। একবার এ ধোঁকার পাল্লায় পড়ে গেলে গোলক ধাঁধার মত ঘুরতে থাকতে হয়। কোনও কূল কিনারা করে ওঠা যায় না। এটা হতে পারে সংসারের প্রতি মায়া। কোনও প্রাণীর প্রতি মায়া। আবার হতে পারে ভালোবাসার মানুষটির প্রতি মায়া। ভালোবাসা নিয়ে অনেক লেখালেখি অনেক কবিতা, কত গল্প, কত কিছুই হয়। কিন্তু সব গল্পের মূল নির্যাসই এই একটা কথা- মায়া। এই মায়ার ধোঁকায় পড়ে ভালোবাসার গভীরতা খুঁজতে খুঁজতে কেউ পাগল হয়ে যায় আর কেউ বা আবেগে আত্মহত্যা করে বসে। আসলে ভালোবাসা জিনিসটা কি এটা বুঝে তার পেছনে ছুটে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। চেনা নেই জানা নেই এরকম অদ্ভুত এক অনুভূতির পেছনে দৌঁড়ানোকেই মানুষ ভালোবাসা বলে নাম দিয়েছে হয়তো।

খানিক সময় মনে হয় এই জালে জড়িয়ে পড়ে মানুষ, কেউ কিছুট পায় আর কেউ সর্বোচ্চ খোয়ায়। কিন্তু কখনও খারাপ কিছু ঘটছে এমন আচ করতে পেরেও সেটা ছিঁড়তে গেলেই আরও জড়িয়ে যেতে হয় যেন। কেমন যেন একটা ঘোর, মায়া বুননের জালটা ছিঁড়তেই দেয় না। খানিক সময় মনে হয় এটা অচ্ছুত ধরনের এক মায়া। ছুঁয়ে ফেললে ধরনটা তার বদলে যায়। কেউ কাছে থাকলে বিরক্ত লাগে আর দূরে গেলে মায়ার সেই জালটাতে টান লাগে।

এই মায়া খানিকটা নদীতে গড়সা জালের ফাঁদে পড়ার মতই লাগে। যেমন ফাঁদে আটকে যাওয়া মাছের একেক ভাগের একেক মূল্য একেক জনের কাছে। যে জাল পেতেছে তার ঘরে মাছগুলোর দাম গড়পড়তা। ঘরে খাবার কিছু নেই মাছই তাদের সম্বল। ভালো খাবার পেলে হয়তো খাবারের তালিকা থেকে মাছটা বাদ দিতে আবেগের কানিকোনায়ও টান পড়বে না।

বাজারে উঠলে মাছের চেহারা আর জাতটা দেখা হয়। যত তাজা আর বিরল জাত হবে বাজারে দামও ততই হাকানো হবে। গরীবরা যে মাছের জাত কিনবে তা ফেলনা ফেলনা মনে হবে। বড়লোকরা যা কিনবে সেটি বিরল আর দামী বলে সেটার অকারণেই দাম বাড়তে থাকবে। ধনীরা খাবারের তালিকা থেকে প্রতিদিনের বড় বড় আইটেম ফেলে সেই চুনো মাছের আইটেমটাই কব্জি ডুবিয়ে খাবে। সেটা তখন তাদের কাছে অমৃত বলে মনে হবে। মাছ কিন্তু একই শুধু জায়গা আর পরিস্থিতির কারণেই মূল্য বদলে যায়। ফাঁদে পড়া মাছ নিয়ে ভিন্ন পরিস্থিতি কিন্তু গল্পের শেষটা কিন্তু একই, জীবনটা ফাঁদে পড়ে মাছেরই যায়।

এই মায়া জিনিসটা কেন জানি খুব বেশি অসহ্য একটা ব্যাপার। এই ছোট শব্দটার জন্য সুন্দর জীবনখানা কেমন করে বিষাদে যেন ভরে যায়। সেই দশ বছর পর কাউকে নিয়ে ঘরটা কিভাবে সাজাবে সেই স্বপ্ন দেখতে দেখতে বর্তমানের কয়েকবছর অনায়াসে চোখের জ্বলে ভাসিয়ে দেয় বেশিরভাগ মানুষ। অল্প কিছু সংখ্যক মানুষ আছে আবেগকে বশ করে জালের বাইরে বেরোতে পারে আর এরাই আসলে সফল। ঠিক যেমন করে গড়সা জালের পাশ কাটিয়ে যাওয়া বাকী মাছ গুলোর মতনই। জালে উঠে বিভিন্ন দামে নিজেকে বিক্রি হওয়াতে কোন আনন্দ নেই। ফাঁদে পড়লেই তাই শেষ। যারা ফাঁদে পড়েনি সমস্ত জলাশয় তাদের। তারা ছুটে চলবে, স্বাভাবিক জীবন যাপন করে শান্তি নিয়ে বেঁচে থাকবে আপন ভুবনে।

গড়সা জালে আলতো করে মাছ গুলোকে তোলা হয় ঠিকই তা ক্ষণিকেরই জন্য আর এটাও আরেক ধরনের ফাঁদ যেন জাল ছিঁড়ে বেরোতে না পারে।

পৃথিবীতে সুখী হওয়ার মূল মন্ত্রটাই বোধ হয় মায়া ছিঁড়ে বেরিয়ে যাওয়া। স্বাভাবিক নিয়মে শুধু নিজেকেই ভালোবাসতে পারাটা শিখতে হবে। মাছের যেমন জাত আর তরতাজা বিচার করা হয়। মানুষের বেলায় ও ঠিক তাই, গুন চেহারা, জাত, ভালোমন্দ বিচার করেই মূল্য নির্ধারণ করা হয়। ভালো মানুষের ভাগে পড়লে ভালো আর না পড়লে সবই গেলো। জীবনটাকে যতই তুচ্ছ ভাবি না কেন আসলে কিন্তু জীবন অতটাও তুচ্ছ নয়। তুচ্ছ মনে হয় তখন,  যখন নিজের প্রতি নিজের বিশ্বাসটা হারিয়ে যায়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad