কলকাতার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল শিলিগুড়িতে।। বিদেশ থেকে ফিরে কাউকে কিছু না জানিয়ে খোসা মেজাজে এলাকায় ঘুরে বেড়ালেন যুবতী। তিনি শিলিগুড়ি পুরনিগমের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভারতনগরের বাসিন্দা। জানা যায়, ফ্রান্স থেকে স্পেন হয়ে বুধবার রাতে বাড়ী ফিরেছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে এবং শুক্রবার সকালে বিষয়টি নজরে আসতেই এলাকাবাসীরা স্থানীয় কাউন্সিলার ও স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের জানান। কিন্তু ওই যুবতী কোনভাবেই হোম কোয়ারেন্টাইনে যেতে চান না। এলাকাবাসীদের মুখ বন্ধ রাখার জন্য নিজের পোষ্য কুকুরটিকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরছিলেন তিনি।
অভিযোগ, এদিন সকালে যুবতীকে বাড়ীতে থাকার পরামর্শ দিলে স্থানীয় কাউন্সিলার এবং স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে অভব্য আচরণ করে তিনি এবং তাঁর বাবা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, অন্যদিকে, আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসীরাও।
একইভাবে ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের দেশবন্ধু পাড়ায় এক মহিলা জার্মানি থেকে ফেরত আসেন। বিষয়টি জানা মাত্রই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। এরপর স্থানীয় কাউন্সিলার ওই পরিবারের শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। হাসপাতালের চিকিৎসক ওই মহিলা সহ পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারান্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
কাউন্সিলার শঙ্কর ঘোষ বলেন, “রাতেই এলাকাবাসীরা আমাকে ফোন করে ওই যুবতীর এলাকায় ঘোরাফেরা করার কথা জানায়। এমনকি এদিন সকালেও ওই যুবতী কুকুর নিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়ান। বিষয়টি জানা মাত্র স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং আমি যুবতীকে বোঝাতে গেলে তাঁরা আমাদের পরামর্শ শোনেনি। উল্টে খারাপ ব্যবহার করেছেন।”
স্বাস্থ্য আধিকারিক আবু হেনা বলেন, “দিল্লি বিমানবন্দরেই ওই যুবতীকে হোম কোয়ারান্টাইনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যুবতী মাস্ক, স্যানিটাইজার সহ কোন পরামর্শ মানছেন না। এতে সাধারণ মানুষ সংক্রমিত হতে পারেন।”
জানা গিয়েছে, ওই যুবতী পুনেতে ম্যানেজমেন্টের পড়ুয়ার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরতা। তাঁর মা রেলে চাকরি করেন। ৩ মার্চ থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত তিনি ফ্রান্স এবং স্পেন ঘুড়তে গিয়েছিলেন। এরপর পুনে থেকে বাড়ী ফেরেন। দিল্লি বিমানবন্দরে নামলে তাঁকে হোম কোয়ারান্টাইনে থাকার পরামর্শ দেয় চিকিৎসক। কিন্তু কোন পরামর্শই শোনেনি তিনি।
অন্যদিকে, দেশবন্ধু পাড়ার মহিলা জার্মানি ঘুড়তে গিয়েছিলেন। তিনি বুধবার বাড়ী ফেরেন। ওই বিষয়ে কাউন্সিলার শরদিন্দু চক্রবর্তী বলেন, “পুরো পরিবারের শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে পরীক্ষা হয়েছে। তাঁদের হোম কোয়ারান্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।”

No comments:
Post a Comment