কালিয়াচক থানার রাজনগর এলাকার কানাইনগর স্ট্যান্ডের কাছে প্রকাশ্য রাস্তায় দুষ্কৃতীদের গুলি চালানোর ঘটনায় জখম হলেন দুইজন। আহতদের মধ্যে একজন মহিলা এবং একজন বৃদ্ধ রয়েছেন। বুধবার বিকেল চারটে নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে কালিয়াচক থানার রাজনগর এলাকার কানাইনগর স্ট্যান্ডের কাছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুলাল মন্ডল এবং নিত্য মণ্ডলের বিরুদ্ধে আহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কালিয়াচক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে পলাতক অভিযুক্তরা। পাশাপাশি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখায় কানাইনগর এলাকার বাসিন্দারা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত বৃদ্ধের নাম নিবারন সাহা (৬০), অপর আহত মহিলার নাম শেফালী মন্ডল (৪০)। এদিন এরা তাদের নিজেদের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই সময় মাস্কেট থেকে একটি গুলি অতর্কিতে নিবারন সাহার ডান হাতের কব্জিতে গিয়ে লাগে। পাশাপাশি ওই মাসকেটের ছড়রা গুলিতে আহত হন শেফালী মন্ডল। এরপর এলাকায় হইচই পড়ে যায়। প্রকাশ্য রাস্তায় অভিযুক্তদের এভাবে গুলি চালানোর ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন গ্রামবাসীরা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্তরা এলাকা থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, নিবারন সাহার ডান হাতের কব্জিতে গুলি লেগেছে। পাশাপাশি শেফালী মন্ডল নামে এক মহিলা রোগীর বাম হাতের ছররা গুলি আঘাত রয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে মেডিকেল কলেজের মেল ও ফিমেল সার্জিকাল বিভাগে।
এদিকে আক্রান্ত নিবারনবাবুর ছেলে রাজ কুমার সাহা পুলিশকে অভিযোগে জানিয়েছেন, এদিন বিকালে কানাইনগর স্ট্যান্ডের সামনে দুলাল মন্ডল এবং নিত্য মন্ডল একটি মাস্কেট নিয়ে ঘোরাঘুরি করছিল। হঠাৎ করে ওই দুজনের মধ্যেই বন্দুক থেকে গুলি ছোড়ার জন্য টানাপোড়েন শুরু হয়। দুজন মিলে একটি মাস্কেট টানাটানি শুরু করে। এতে হঠাৎ করে টিগার চেপে যায়। আর তখনই সেগুলি গিয়ে লাগে বাবা নিবারণের ডান হাতে। পাশাপাশি গুলিতে শেফালী মন্ডলও জখম হন।
স্থানীয় গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দুলাল মন্ডল এবং নিত্য মন্ডল এলাকার দাগি সমাজবিরোধী হিসাবে পরিচিত। এদিন তারা দুপুর থেকেই প্রকাশ্য রাস্তায় একটি মাস্কেট নিয়ে ঘোরাঘুরি করছিল। তারপর দুজনের মধ্যেই শূন্যে গুলি ছোড়া নিয়ে শুরু হয় তর্কাতর্কি। একে অপরের কাছ থেকে বন্ধুক কাড়াকাড়ি করতে গিয়ে গুলি চালানোর ঘটনাটি ঘটেছে। প্রকাশ্যে দুষ্কৃতীদের এই দৌরাত্ম নিয়ে বিস্তর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় গ্রামের বাসিন্দারা। অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। কালিয়াচক থানার পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment