বসন্ত উৎসবের প্রাক্কালে চায়না রং-এ করোনা আতঙ্ক। যার কারণে দোল উৎসবের মুখে রং ব্যবসায়ীদের ব্যবসায় চরম মন্দা দেখা দিয়েছে। হোলির বাজার এখন ফাঁকা। যদিও বা কেউ রঙ কেনার জন্য দোকানে যাচ্ছেন, তাও বারবার খোঁজখবর নিয়ে জানছেন কোথা থেকে নিয়ে আসা হয়েছে রং, আবির, পিচকারি। ইতিমধ্যে মালদার বাজারে রং কেনার বিপুল চাহিদা দেখা যায় উৎসাহী মানুষদের মধ্যে। কিন্তু এবারে হোলির বাজার একেবারে ফাঁকা। ব্যবসায়ীদের রীতিমতো মাথায় হাত পড়েছে।
এদিকে করোনা ভাইরাসের মোকাবিলায় ৮ বেডের একটি আলাদা সংক্রামক বিভাগ খোলা হয়েছে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। যেখানে নির্দিষ্টভাবে চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিযুক্ত করা হয়েছে। এনিয়ে শুক্রবার মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডাঃ অমিত দাঁ জানিয়েছেন, করোনা নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
তবে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। অযথা গুজব ছড়াবেন না এবং কান দেবেন না। মুরগি খাওয়া নিয়ে কোনো রকম বিধিনিষেধ নেই । তবে জ্বর , সর্দি , কাশি হলে আতঙ্কিত হবেন না। আগে দেখতে হবে এই জ্বর হওয়ার আগের মুহূর্তে রোগী বাইরের কোন দেশে গিয়েছিলেন কিনা। অথবা এক টানা ১৫ দিন ধরে জ্বর, সর্দি , কাশি না কমলে তার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ডাঃ অমিত দাঁ জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে করোনা জনিত কারণে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ৮ বেডের একটি নতুন বিভাগ চালু করা হয়েছে। রোগীদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করার জন্য পর্যাপ্ত কীট রয়েছে। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর সব রকম ভাবে প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে সোমবার দেবদোল। আর তারপরের দিনই মালদায় পালিত হয় দোল উৎসব। যেখানে উৎসাহী সাধারণ মানুষ রঙের প্রলেপ মেখে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সামিল হন। বাড়ির শিশু থেকে বয়স্কদের নিয়েও অনেকেই দোল উৎসব পালন করেন। কিন্তু অদ্ভুত কারণেই করোণা আতঙ্কেই এখন রং খেলা নিয়ে এবছর অনেককেই উৎসাহী হতে দেখা যাচ্ছে না। যার কারণে মালদার বিভিন্ন বাজারে রং-এর দোকানে ক্রেতাদের ভিড় নেই।
মালদা শহরের চিত্তরঞ্জন পুরোবাজার এলাকার এক রঙ ব্যবসায়ী প্রতাপ সাহা বলেন, আমি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে রংয়ের ব্যবসা করে আসছি। এরকম ঘটনা কখনোই নজরে আসে নি। করোনা আতঙ্কের কারণে ক্রেতারা দোকানে আসছেন না। আমরা ক্রেতাদের বলছি আবির , রং , পিচকারি এরাজ্যে তৈরি । কিন্তু তাও মানুষকে বোঝানো যাচ্ছে না। যতটুকু মানুষ আসছেন সবাই জিজ্ঞেস করছেন চায়না রং, আবির নেই তো। তাই এবছর বেচাকেনা একেবারেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।
উল্লেখ্য, মালদার বেশ কয়েকটি এলাকায় দেব দোলের দিন থেকেই বসন্ত উৎসব পালিত হয়। কিন্তু সেই সব এলাকাগুলিতেও বসন্ত উৎসব পালন করার উৎসাহ তেমন ভাবে দেখা যায় নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বসন্ত উৎসবের আয়োজকেরা ভেষজ আবিরের খোঁজ শুরু করেছেন। কিন্তু সেই আবির সংগ্রহ করা নিয়েও তৈরি হয়েছে নানান সমস্যা।
মালদা বসন্ত উৎসব আয়োজক কমিটির এক কর্তা জানিয়েছেন, রং এবং আবির আমাদের সামনে তৈরি হয় না। তাই এই রং বা আবির বিদেশ থেকে আসছে কিনা তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই ।করোনা মূলত আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুনেছি চায়না থেকে রঙেই করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই এবার বসন্ত উৎসব পালন হলেও হয়তো রঙের প্রলেপ থাকবে না।

No comments:
Post a Comment