শুক্রবার সন্ধ্যাে থেকে পালিত হলো ঐতিহ্যবাহী পঞ্চমদোল। প্রায় ১৩৬ বছর ধরে রায় বাড়ির তথা জমিদার বংশের পূর্ব পুরুষ এই দোল উপলক্ষে রামকানাই দোল পালন করে আসেন পাঁচ দিন ধরে চলা দোল উৎসব শুক্রবার শেষ হয়। মালদা জেলার এক প্রান্তে থাকা হরিশ্চন্দ্রপুর সেই এলাকায় প্রাচীন শতাব্দী জমিদার বাড়ির রায় বাড়ি নামে পরিচিত সেখানে রামকানাইকে ঘিরে এই দোল পালিত হয়ে আসছে
শুক্রবার সন্ধ্যো থেকে মানুষে সমাগম হতে থাকে এই রায় বাড়িতে জমিদার বংশের পরিবারের সদস্যরাসহ গ্রামের সাধারণ মানুষও দোল খেলায় মেতে উঠল। আবির দিয়ে রাঙ্গিয়ে ওঠে রামকানাইয়ের বিগ্রহ শোভাযাত্রাকে। প্রায় ১৩৬ বছর আগে জমিদার ভজ মোহন রায় এই জমিদারির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তখন থেকেই দোল উৎসব হয়ে আসছে।
আর এই দোল উৎসবে জমিদার বাড়ির সদস্যরা ছাড়াও গ্রামের অন্যান্য মানুষরাও এই উৎসবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। পাঁচ দিন ধরে চলেএই উৎসবে। চলে ভজন কীর্তন তার সাথে জমিদার বাড়ির সামনে বসে বিশাল মেলা। পঞ্চম দোলের দিন থাকে বিশেষ আতশবাজির প্রদর্শনী। চলে বিশেষ পুজো। হরিশ্চন্দ্রপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার মানুষেরা ঐতিহ্যবাহী দোল দেখতে এলাকায় ভিড় জমান।
রাত পর্যন্ত চলে কীর্তন গান। পঞ্চম দিনের দিন ভগবান রাম কানু কে গ্রামের সব ধর্মের মানুষরা আবির দিয়ে রাঙান। সবশেষে বেরোয় শোভাযাত্রা। ঢোল সানাই বাজিয়ে গোটা গ্রাম পরিক্রমায় বেরন সময় চলে সাথে কীর্তন সাথে চলে আবির খেলা।
জমিদার বাড়ির সদস্য তথা বিখ্যাত গায়ক সৌমিত্র রায় জানালেন তিনি ছোট থেকেই এই পঞ্চম দলে অংশগ্রহণ করেন। তার দাদুর বাবা এই উৎসবের সূচনা করেছিলেন। এই উৎসবে হরিশ্চন্দ্রপুর সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ করে থাকে।
হরিশ্চন্দ্রপুর এরাই জমিদারি দোল উৎসব শুধু তাদের পারিবারিক নয় সার্বজনীন গ্রামীণ উৎসবে পরিণত হয়েছে।গ্রামের সব ধর্মের সব বর্ণের মানুষ এই উৎসবে অংশগ্রহণ করে রামকানাইয়ের কে আবির দেন এভাবেই তারা এই আনন্দে শরিক হয়ে প্রতিবছর করে আসছেন।

No comments:
Post a Comment