এগারো দিন ধরে নিখোঁজ এক কেন্দ্রীয় অফিসের কর্মী। সেই ঘটনায় ওই সরকারি কর্মীর কোন খোঁজ না পেয়ে উৎকণ্ঠায় পরিবারের সকল সদস্যরা। বালুরঘাট প্রধান ডাকঘরের কর্মী জয়দেব দত্ত নামে ওই যুবক গত ৪ মার্চ থেকে নিখোঁজ। কেন এবং কি কারনে সে হঠাত করে নিখোজ হলেন সে নিয়ে ধন্দে তার পরিবার পরিজন থেকে তার অফিসের বন্ধুবান্ধব মহল। তার কোন হদিস না পেয়ে জেলা পুলিশের পাশাপাশি লালবাজারের মিসিং স্কোয়াডের দ্বারস্থ ওই নিখোঁজ থাকা কেন্দ্রীয় কর্মীর পরিবার।
জানা গেছে বালুরঘাট সাহেব কাছারি পাড়ার বাসিন্দা অমল চন্দ্র দত্তের তিন ছেলে। যার মধ্যে বড় ছেলে জয়দেব দত্ত গত রোববার 8 মার্চ তারিখ বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। আরও জানা গেছে, বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় জয়দেব দত্ত তার মোবাইল থেকে শুরু করে মানিব্যাগ কিছুই সঙ্গে নেননি। যে কারণে তার সঙ্গে তার বাড়ির লোক কোনভাবেই যোগাযোগ করতে পারছে না। আর এই কারনেই বাড়ির লোক উৎকণ্ঠায় ভুগছেন।
আরো জানা যায়, পোস্ট অফিসের কর্মী জয়দেব বাবু ঠিক কি কারণে বাড়ি থেকে আর ফিরে এলেন না। সেই বিষয়ে ধন্দে তার পরিবার। এই বিষয়ে বালুরঘাট থানা ও লালবাজারে অভিযোগ জানিয়েছে জয়দেব বাবুর পরিজনেরা।
তার পরিবার সূত্রে খবর জয়দেব দত্ত তার বাড়িতে খুব কম কথা বলতেন। এমনকি বেশ কয়েক বছর যাবৎ তিনি তার মায়ের সাথে কথা বললেন না বলে জানা গেছে। তাই লাজুক স্বভাবের জয়দেব দত্ত ঠিক কি কারনে বাড়িতে ছাড়লেন সেই বিষয়ে কিছুই বলতে পারেননি তার পরিবারের লোকেরা। এমনকি তার অফিসের সহ কর্মী ও বন্ধুবান্ধব মহল ও এই নিয়ে কোন আশার আলো দেখাতে পারেনি।
তবে তারা জানিয়েছেন, বেশ কিছু দিন ধরে জয়দেবকে একটু অন্যমনষ্ক ও মনমরা দেখাচ্ছিল। জিজ্ঞেস করলে সে নিয়ে সে কোন উচ্চবাচ্চ্য করে নি বলে তারা জানিয়েছে।
এদিকে বাড়িতে জয়দেব যে ঘরে থাকতেন বাড়ি থেকে বেড়োনোর সময় সে অনান্য দিনের মত তালা মেরে যাওয়ায় পরিবারের লোকজন তার সঠিক হদিস পেতে পুলিশ ডেকে তালা ভেংগে তার ঘরে ঢোকে।পুলিশ নিয়ে ঘরে ঢুকে তার মানি ব্যাগ মোবাইল ফোন ও একটি ব্যাংকের পাশ বই ও এ টি এম কার্ড উদ্ধার করে।
পাশাপাশি বাবাকে উদ্দেশ্য করে লেখা একটি চিরকুট পুলিশ উদ্ধার করেছে। তাতে জয়দেব বাবার উদ্দেশ্যে লিখেছে তার ব্যাংকে এক লক্ষ টাকা জমা রয়েছে, বাবা এই টাকা খরচ করতে পারে।তার জন্য সে ব্যাকের এটিএম এর পিন নম্বরও লিখে রেখে গেছে ওই চিরকুটে বলে পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে।
এই অবিবাহিত যুবক হঠাৎ কি কারনে এভাবে কাউকে না জানিয়ে নিখোঁজ হলেন সে নিয়েই পুলিশ ধন্দে। যদিও তার এক ভাইয়ের দাবি তিনি নাকি তার দাদাকে রাত্রিকালিন একটি কলকাতা যাওয়ার বাসে তাকে সেদিন হঠাৎ করে দেখতে পেয়েছিলেন বালুরঘাট বাস স্ট্যান্ডে বন্ধুদের সাথে রোজকার মত আড্ডা মারার সময়। সে সময় সে ভেবেছিল দাদা বোধহয় নিজের কাজে কলকাতা যাচ্ছে। নিখোঁজ থাকার পরে ওই বাসের কাউন্টারে খোঁজ নিয়ে দাদার নামের কোন যাত্রীর নাম সেদিনের যাত্রী তালিকায় পায় নি।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ছেলের কোন খোজ না পেয়ে তার বৃদ্ধ বাবা-মা থেকে শুরু করে তার ভাইয়েরা সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। যে কোনোভাবে যদি কোন ব্যাক্তি জয়দেব দত্তের খোঁজ পেয়ে থাকেন তাহলে যেন তারা সেই খবর তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন।

No comments:
Post a Comment