বিজেপি নেতাকে কি চক্রান্ত করে গ্রেফতার করানো হয়েছিল ! প্রকাশ্যে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, 6 March 2020

বিজেপি নেতাকে কি চক্রান্ত করে গ্রেফতার করানো হয়েছিল ! প্রকাশ্যে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য





দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুরের জনপ্রিয় বিজেপি নেতা তথা বিজেপির প্রাক্তন গঙ্গারামপুর মন্ডল সভাপতি সনাতন কর্মকারকে কি চক্রান্ত করে মিথ্যে অভিযোগে গ্রেফতার করানো হয়েছিল !!! এর পেছনে তৃণমূল কংগ্রেসের হাত রয়েছে বলেই অভিযোগ সনাতন বাবুর।  এমনি একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ।




শুধুমাত্র বিজেপির সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করার জন্য এবং বিজেপি নেতাদের কালিমালিপ্ত করার জন্য গঙ্গারামপুর বিজেপির মূল কান্ডারী তথা গত বিধানসভার গঙ্গারামপুরের বিজেপি প্রার্থী সনাতন কর্মকারকে সুপরিকল্পিত ভাবে মিথ্যে মামলায় গ্রেফতার করিয়েছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের তৃণমূল নেতৃত্ব ,এমনি দাবী করছেন সনাতন বাবু। তিনি আরো জানান, তিনি যে নির্দোষ ছিলেন তার সবচেয়ে বড় প্রমান অভিযোগকারীর হলফ নামা যা  তিনি আদালতে দাখিল করেছেন।





উল্লেখ্য , গত ২৮ শে আগস্ট ২০১৯ , গঙ্গারামপুর ব্লকের নায়াবাজার এলাকার বাসিন্দা দিলীপ বর্মন গঙ্গারামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগে যানান যে , বিজেপি নেতা সনাতন কর্মকার তার কাছে থেকে সিভিক পুলিশের চাকরি দেবার নাম করে ১ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা নিয়েছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৬ শে সেপ্টেম্বর ২০১৯, মধ্যরাতে সনাতন বাবুকে গ্রেফতার করেন গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ।





কিন্তু আমাদের কাছে যে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রমাণ উঠে এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে যে , যে অভিযোগকারী সনাতন কর্মকারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন সেই অভিযোগকারী গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে ১৩ ই সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে একটি হলফনামাতে জানিয়েছেন যে সনাতন কর্মকার তাঁর(দিলীপ বর্মন) কাছে থেকে সিভিক পুলিশে চাকরী দেবার নাম করে কোনো প্রকার টাকা নেননি এবং সনাতন কর্মকারের বিরুদ্ধে তাঁর কোনো অভিযোগ নেই।



এই প্রসঙ্গে সনাতন কর্মকারের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী দিলীপ বর্মনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে দিলীপ বাবু জানান, "সনাতন কর্মকার আমাদের বিজেপির একজন বিশ্বস্ত দলীয় নেতা। আমার স্ত্রীর নার্সিং ট্রেইনিং এর খরচার জন্য আমাদের নেতা সনাতন কর্মকারের কাছে আমি ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা গচ্ছিত রাখি। তারপর যখন জানতে পারি যে আমার স্ত্রী নার্সিং ট্রেইনিং এর জন্য বিবেচিত হয়নি তখন আমি আমাদের নেতার কাছে আমার গচ্ছিত টাকা ফেরত চাই।




তখন সনাতন কর্মকার আমাকে ১১ হাজার টাকা ফেরত দেন এবং বাকি টাকা কয়েকদিন পরে দেবেন বলেন।  এই কথা আমি পাড়াতে গল্প করলে প্রতিবেশীরা  আমাকে দিয়ে সনাতন কর্মকারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করায় । সনাতন কর্মকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্রে কি লেখা ছিল  তাও  সঠিক  ভাবে তিনি জানতেন না। কিন্তু বর্তমানে আমি আমার গচ্ছিত টাকা সনাতন কর্মকারের কাছে থেকে পেয়ে গেছি।




সনাতন কর্মকার আমার কাছ থেকে সিভিক পুলিশের চাকরি দেবার নাম করে কোনো প্রকার টাকা নেননি।  তাই সনাতন কর্মকারের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। কিছু লোক চক্রান্ত করেই  আমাকে দিয়ে সনাতন কর্মকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করিয়েছিল।"




এবার দেখার বিষয় যে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে গঙ্গারামপুর বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় সাড়ে ২২ হাজার ভোটে পিছিয়ে যাবার কারণে বালুরঘাট লোকসভা আসনটি বিজেপির কাছে  হারাতে হয়েছিল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে।




আর গঙ্গারামপুর বিধানসভায় বিজেপিকে প্রায় সাড়ে ২২ হাজার ভোটে লিড দেবার পেছনে সবচাইতে বেশি ভূমিকা ছিল যে গঙ্গারামপুর বিজেপির কান্ডারী সনাতন কর্মকারের তা শাসক বিরোধী সকলেরই জানা । তাহলে কি শুধুমাত্র লোকসভা নির্বাচনের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই বিজেপি নেতা সনাতন কর্মকারকে সুপরিকল্পিত ভাবে চক্রান্ত করে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল ?

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad